ভিতরে

জনজীবন অতিষ্ঠ করে শহরকে বিপর্যস্ত করার অধিকার কারো নেই : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, রাজধানীসহ দেশের কোথাও জনজীবন অতিষ্ঠ করে শহরকে বিপর্যস্ত করার অধিকার কারো নেই। তাই সরকারী জমি দখল করে এবং অপরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করে কাউকে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করতে দেওয়া হবে না। মো. তাজুল ইসলাম আজ রাজধানীতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে স্বেচ্ছায় প্রশস্ত করা সড়ক পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, রাজধানীসহ দেশের বড় বড় নগরে অবৈধভাবে জায়গা দখল করে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অপরিকল্পিতভাবে নগরীগুলো গড়ে উঠছে। এটা চলতে দেয়া যাবে না। পর্যাপ্ত রাস্তা, খোলা জায়গা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিজস্ব সেপ্টিক ট্যাংকসহ অন্যান্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত না করে আর কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে দেয়া হবে না। রাস্তা প্রশস্ত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাউন্সিলর, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, মসজিদের ইমামের, নারী-পুরুষ এবং ভলান্টিয়ার অর্থাৎ সব শ্রেণীর মানুষকে অন্তভূক্ত করা হয়েছে বলে এসব কাজ করা সম্ভব হচ্ছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে না পারলে যে কোন কাজে সফলতা পাওয়া সম্ভব না। জনগণকে সম্পৃক্ত করায় প্রত্যাশিত ফল আসছে। রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য অনেকের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে । যোগাযোগের জন্য, মানুষের চলাফেরার জন্য যদি পর্যাপ্ত রাস্তা না থাকে তাহলে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে রাজধানীবাসীর সহযোগিতা দরকার। মানুষের শান্তি ও উন্নয়নের জন্য মসজিদ-মাদ্রাসা, কবরস্থান এবং ধর্মীয় অবকাঠামো অন্যত্র সরিয়ে নেয়া যাবে না এই ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে সুউচ্চ ভবন নির্মাণ হবে, এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আগে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। খেলার মাঠ, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজসহ অন্যান্য নাগরিক সেবা ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করতে না পারলে সুউচ্চ ভবনে অনুমোদন দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, খালগুলো দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করে দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, সবুজায়ন করে সুন্দর নগরী গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। হাতিরঝিলের চেয়েও আরো বেশি সুন্দর করে খালগুলোকে নির্মাণ করা হবে। পরিবেশের ক্ষতি করে উন্নয়নের সুফল পাওয়া যাবে না বরং কুফল বয়ে আসবে। সুন্দর জীবন-জীবিকার জন্য পারিপার্শ্বিক সবকিছু আমলে নিয়ে উন্নয়ন করতে হবে।
তাজুল বলেন, ঢাকা ওয়াসা থেকে খাল এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার দায়িত্ব দুই সিটি কর্পোরেশনের নিকট হস্তান্তর করায় রাজধানীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ম্যাজিকের মত কাজ হয়েছে। তার সুফল নগরবাসী পেতে শুরু করেছে।
পরে মন্ত্রী স্বেচ্ছায় রাস্তা প্রশস্তকরণে যারা জায়গা দিয়েছেন এবং ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারএমপি। এছাড়াও এতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট
উত্তর দিন

মন্তব্য করুন

ঘরের কালো মেঝেই ছিলো যার ক্যানভাস, এখন তিনি অনলাইনে দাপুটে চিত্রশিল্পী

টেকসই উন্নয়নে উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে : স্বপন