ভিতরে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: রোমাঞ্চিত বাবর-রিজওয়ানরা

 খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। সুপার টুয়েলভে গ্রুপ পর্বে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে বিশ^কাপ থেকে বলতে গেলে ছিটকে পড়েছিলো পাকরা। কিন্তু  গ্রুপ পর্বে শেষ তিন ম্যাচ জিতে নাটকীয়ভাবে এখন ফাইনালের মঞ্চে পাকিস্তান। 
গতকাল বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তান ৭ উইকেটে হারায় নিউজিল্যান্ডকে। টুর্নামেন্টের হট ফেভারিট নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালের মঞ্চে প্রতিন্দ্বন্দিতাই করতে পারেনি। 
পাকিস্তানের বোলিং-ফিল্ডিং ও ব্যাটিংএর সামনে অসহায় ছিল  গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলা নিউজিল্যান্ডকে।
দুর্দান্ত বোলিং ও ফিল্ডিং দিয়ে প্রথম ব্যাট করা নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে ১৫২ রানের বেশি করতে দেয়নি পাকিস্তান। পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির সাথে অন্যান্য বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংএর বড় স্কোর করতে পারেনি নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা। সাথে শাদাব-মাসুদের দারুন ফিল্ডিংয়ে বেশ কিছু রান থেকে বঞ্চিতও হয় নিউজিল্যান্ড। 
১৫৩ রানের টার্গেটকে সহজ করে ফেলেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার অধিনায়ক বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। উদ্বোধনী জুটিতে ৭৬ বল খেলে ১০৫ রান যোগ করেন  তারা। বাবর ৫৩ ও রিজওয়ান ৫৭ রান বিদায় নিলেও সর্বশেষ ২০০৯ সালের পর আবারও ফাইনালের টিকিট পেতে সমস্যা হয়নি পাকিস্তানের। সে আসরেই   প্রথম ও শেষবারের মত টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপের শিরোপা জিতেছিলা পাকিস্তান।  
ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় ম্যাচ শেষে অধিনায়ক বাবরের মুখে চওড়া হাসি। এখন তেকেই ফাইনাল নিয়ে ভাবছেন বলেও জানান তিনি, ‘শেষ তিন ম্যাচে আমরা  অসাধান খেলেছি। সেমিফাইনালে  নিউজিল্যান্ডের  বিপক্ষে  তিন বিভাগেই দারুন ক্রিকেট খেলেছে ছেলেরা। এই যঅর্জন সতীর্থদের পরিশ্রমের ফসল। আমরা এই সময়টা উপভোগ করছি। এখন আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল। আমরা ফাইনাল নিয়েই ভাবছি।’
৫টি চারে ৪৩ বলে ৫৭ রান করে ম্যাচ সেরা রিজওয়ান। সেমিফাইনাল জয়ে বিশ^াস দলের মধ্যে ছিলো উল্লেখ করে  তিনি বলেন , ‘ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করেছে।  তাই  বিশ্বাস ছিলো আমরা পারব্।ো’
টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ড নয় বার সেঞ্চুরির জুটি গড়েন বাবর-রিজওয়ান। বিশ^কাপের মঞ্চেও রেকর্ড গড়েন তারা। বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো শতরানের জুটির মালিক বাবর ও রিজওয়ান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আর কোন জুটির এমন রেকর্ড নেই। 
ব্যাটিংয়ে নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে রিজওয়ান বলেন, ‘আমি আর বাবর নতুন বলের পুরোটা সময় খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কারন পিচ বেশ কঠিন ছিলো। পাওয়ার-প্লে শেষ করার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম কোন একজনকে শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে।’
ফাইনালে উঠেই হুঙ্কার দিয়ে রাখলেন পাকিস্তানের দলের টিম মেন্টর সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ম্যাথু হেইডেন। তিনি বলেন, ‘এই রাতটা বিশেষ কিছু। আমাদের পেসাররা দারুণ কাজ করেছে। আমি মনে করি না-আমরা নিজেদের সেরাটা এখনও করতে পেরেছি। ফাইনালে আমাদের  ভয়ংকর রূপ দেখা যাবে ।’
ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতকে চাইছেন হেইডেন। তিনি বলেন, ‘আমি ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলতে চাই। কেননা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেইতো অন্য কিছু।’

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট

একটি মন্তব্য

বিশ্বকাপে সবচেয়ে ব্যয়বহুল দল

চার হাজার রান করা প্রথম ব্যাটার কোহলি