ভিতরে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভরাডুবির প্রধান তিন কারণ

 এই ফরম্যাটে পারফরমেন্স বিবেচনায় কেউই আশা করেনি এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ দল। গত সাত আসরে মূল রাউন্ডে পাওয়া টাইগাররা মাত্র একটি জয় পাওয়ায়  এই বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার ভাবনাও ছিল না।
কিন্তু বাংলাদেশের প্রস্তুতি যথেষ্ট ভালো ছিল। বিশ্বকাপের ঠিক আগে নিউজিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছে তারা। যদিও সবকটি ম্যাচেই হেরেছিলো টাইগাররা। খুব ভালোভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে। বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে সেটি স্বীকার করেছিলো খেলোয়াড়রা। ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাক-টু-ব্যাক হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। যা বাংলাদেশের জন্য বাড়তি পাওনা ছিল ছিলো। 
বাংলাদেশ দলের ভাল কিছু করার ব্যাপারে ক্ষীণ আশা ছিল।বিশেষ করে ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে শীর্ষ কোন দলকে পরাজিত করার লক্ষ্য ছিলো তাদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা করতে পারেনি তারা।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দু’টি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারত-পাকিস্তানের বিপক্ষে অন্তত একটি ম্যাচে জিততে পারার মতো  ভালো অবস্থায় ছিলো টাইগাররা। উপমহাদেশের দুই  জায়ান্টকে হারানোর কাছাকাছি এসেও সেটি করতে পারেনি টাইগাররা।
কাগজে কলমে এটি বাংলাদেশের সেরা বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স হলেও বাস্তবতা হচ্ছে  যথেষ্ট ভালো পারফরমেন্স ছিল না বাংলাদেশের। কিছু সিদ্ধান্ত বিপক্ষে যাওয়া ও পারফরমেন্সে অনেক ঘাটতি ছিলো। এই ফরম্যাটে ভালো করতে এসব কাটিয়ে উঠা দরকার।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ও টিম ম্যানেজমেন্টের মতে, বাংলাদেশের ভরাডুবির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ ছিল। মিডল অর্ডারের বাজে পারফরমেন্স, অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ফর্ম এবং সবশেষে আম্পায়ারের বেশ কিছু বিতর্কিত  সিদ্ধান্ত। তবে একটি পজিটিভ বিষয় আছে-তাসকিন আহমেদের নেতৃত্বে  দলের বোলিং পারফরমেন্স, যা গ্রুপে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিল।
বাংলাদেশ দলের পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচেই উন্নতি করেছি, কিন্তু আমাদের মিডল অর্ডার তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ যখন দলে তার অন্তভুর্ক্তি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছিল সেই সময়ে  ওপেনিং পজিশনে দু’টি হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত (৭১ ও ৫৪)। আমি জানি না মানুষ কেন তাকে নিয়ে নেতিবাচক কথা বলে! সে একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় এবং নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। লিটনও ভালো খেলেছে।’
একজন সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের অনেক দায়িত্ব ছিল। কিন্তু বড় মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরতে পারেনি সে। ৫ ম্যাচে মাত্র ৪৪ রান ও ২৭ দশমিক ৮৩ গড়ে এবং ৮ দশমিক ৭৮ ইকোনমি রেটে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এই ফরম্যাটের বিশে^র এক নম্বর অলরাউন্ডারের কাছ থেকে যে ধরনের পারফরন্সে প্রত্যাশিত ছিল তা হয়নি। 
পাকিস্তানের বিপক্ষে বিতর্কিত আউট হন সাকিব। থার্ড আম্পায়ারের বড় ভুলের কারণে আউট হন তিনি। তার বির্তকিত আউটের সমালোচনা হয়েছে ব্যাপক। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, ভিডিও রিভিউর পরও উইকেট রক্ষা হলে কি করতে পারতেন তিনি? দলের মিডল অর্ডার এতটাই নড়বড়ে ছিল যে, সাকিব আউট হবার পর ৫৩ রানে শেষ ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ নাজমুল আবেদিন ফাহিম বলেন, ‘সাকিবের পারফরমেন্স হতাশাজনক ছিল। সে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারলে আমাদের ফল আরো ভালো হতো।’
বৃষ্টি আইনে ভারতের কাছে ৫ রানে হারে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের মতে, বিরাট কোহলির ফেক থ্রো ভঙ্গি দলের পাঁচ রান পেনাল্টি হিসেবে পাওয়া উচিত ছিল। মাঠ পর্যাপ্ত শুকানোর আগেই আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারি খেলা শুরু করার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু ভেজা মাঠ ফিল্ডিং দলের জন্য সমস্যার, ব্যাটিং দলের জন্য নয়।
বৃষ্টি বিরতির পর ১০ উইকেট হাতে নিয়ে ৫৪ বলে ৮৫ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু টাইগারদের ইনিংসে ধস নামে এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৫ রানে হেরে যায়। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, হারের জন্য তাদের আতঙ্ক এবং অভিজ্ঞতার অভাবকে দায়ী করেন। হারের জন্য আম্পায়ারের ভুল সিদ্বান্ত বা ফেক থ্রো নিয়ে অজুহাত দেননি তিনি।
পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘আমরা যেকোন সিদ্ধান্ত নিয়ে আম্পায়ারদের সাথে আলোচনা করতে পারি কিন্তু তারা কোন  সিদ্ধান্ত দিলে  তাহলে আমাদের  কিছুই করার নেই। আমরা অভিযোগ করলেও, ম্যাচের ফলাফল পরিবর্তন করা হবে না।’

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট

একটি মন্তব্য

লা লিগা: মৌসুমের প্রথম পরাজয়ের স্বাদ পেল রিয়াল

হতাশা নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফিরলো টাইগাররা