ভিতরে

সেবা দিচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসক ও নার্সরা

॥ মো: আসাদুজ্জামান আসাদ ॥ 
ঠাকুরগাঁও, ৫ নভেম্বর, ২০২২ : প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রাণকেন্দ্র কমিউনিটি ক্লিনিক। অবস্থায় ঠাকুরগাঁওয়ে ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে রোগীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মতিন বাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিতে অনেকে এসেছেন। তারা সাধারণত জ্বর, সর্দি ও পেটের সমস্যা নিয়ে এখানে সেবা নিতে এসেছেন।
এখানে জনসংখ্যা প্রায় দশ হাজার। এর মাঝে গত বছর ৭৭২৬ জন প্রাথমিক সেবা নিয়েছেন। আর চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার মানুষ সেবা নিয়েছেন। বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্বাবের কারণে এখানে দিন দিন রোগী বাড়ছে। সেবা নিতে আসা রোগীরা বলছেন, বিভিন্ন রোগের প্রার্দুভাবের কারণে তারা শহরে না গিয়ে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখানকার ওষুধে তারা ভালো উপকার পাচ্ছেন।
দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মী রহমত আলী বলছেন, জ¦র সর্দিসহ নানা রোগের প্রার্দুভাবের কারণে অনেকে শহরে না গিয়ে এখানে সেবা নিতে আসেন। আমরা তাদের সাধারণ চিকিৎসার বাইরে নিয়মকানুন মানার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। আর আমরা স্বল্প সংখ্যক লোকবল নিয়ে এ ইউনিয়ন সেবা কেন্দ্র চালাচ্ছি এর পরেও প্রতিদিন গড়ে ৩৫০-৪০০ রোগীকে সেবা দেওয়া হয এখানে। একইভাবে জেলার সকল ইউনিয়ন  স¦াস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেই স্বল্প লোকবল ও নানা সমস্যা নিয়েও সেবা দিচ্œে স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তার ও নার্সরা।  
চিকিৎসা নিতে আসা আনোয়ারা বেগম (৫৬) বলেন, ‘কয়দিন ধরেই আমার পেটের সমস্যা। আমি এখানে ওষুধ নিতে এসেছি। জ্বর হলেও আমি এখানে আসি। বাইরে থেকে কিনে ওষুধ খেলে আমার রোগ ভালো হয় না। এখানকার ওষুধে কাজ ভালো হয়।তাই এখানেই আসি। আর এখানকার ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আচরণ ও কথাবার্তা খুবই ভালো। তাই এখানে আসলে অসুখ এমনিতেই অর্ধেক ভালো হয়ে যায়। 
সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপেক্সে দেখা যায় অনেক মানুষের ভিড়। বিকেল ৫টাতেও প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষের ভিড়। এখানে আলামিন ইসলাম (৬০) চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘শরীর দুর্বল মনে হয়। তাই এখানে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে আমাদের পরিবারের সবাই এখানে চিকিৎসা নেয়। এখানকার চিকিৎসায় আমাদের রোগ সেরে যায়। আর ডাক্তার নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা খুব আন্তরিক এখানে। যার কারণে সেবা খুব ভালো পাওয়া যায়।  
একই এলাকার আরেকজন বৃদ্ধা রহিমা বেওয়া বলেন, ‘আমার অ্যালার্জির সমস্যা ও শরীরের দুর্বলতা। আমি এখানে ওষুধ নিতে এসেছি। ডাক্তার আমাকে দেখে ওষুধ দিয়েছেন। এখানকার ওষুধ খেয়ে আমার রোগ সেরে যায়। ক্লিনিক হওয়ার পর থেকে আমি এখান থেকে ওষুধ নিয়ে যাই। আর নার্স, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা খুব ভালো। তারা কোন সময় দেরি করায় না। দুপুরের খাবার সময় হলেও তারা আগে রোগীদের সেবা দেয় তারপর ভাত খায়। তাছাড়া আমাদের এখানে সবার সাথে একটা আতœীয়তার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা এ ক্লিনিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকি। এছাড়া স্বাস্থ্য শিক্ষা দিয়ে থাকি। আমাদের ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিকে মূল কাজ হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষা দেয়া। ক্লিনিকের শুরুতে রোগীর সংখ্যা কম ছিল। করোনা মহামারি চলা অবস্থায় রোগী অনেক বেড়ে যায়। করোনা সংকট সফলতার সাথে মোকাবেলার পরও জ্বর, সর্দি আক্রান্ত হলে এখানকার মানুষ আমাদের এখানে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যারা আগে শহরে গিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতেন তারা এখানে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আগে আমাদের এখানে ওষুধের ঘাটতি ছিল। কিন্তু এ সময় আমাদের ওষুধের কোনো ঘাটতি নেই। আর আমরা তৃণমূলে হলেও স্বল্প লোকবল নিয়েই ভালো ও মান সম্মত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি বলেও জানান তিনি। 
তিনি আরো বলেন, ‘আগের বছরে আমাদের এখানে ৭৭২৬ জন প্রাথমিক সেবা নিয়েছেন। চলতি বছরের গতকাল (২২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার জন প্রাথমিক সেবা নিয়েছেন। বর্তমানে যারা জ্বর ও সর্দি আক্রান্ত হয়ে আমাদের এখানে আসেন তাদের আমরা ওষুধ দিয়ে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। স্বাস্থ্যগত নিয়ম কানুন মেনে চলার জন্য আমরা পরামর্শ দিই। প্রচারের কারণে স্বাস্থ্যগত বিষয়ে গ্রামের অনেক মানুষ সচেতন হয়েছেন। তবে আমরা আমাদের লোকবল সংকট, তৃণমূলে আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকা, ভালো ডাক্তাররা গ্রামে আসতে না চাওয়াসহ  নানা প্রতিকূলতার মধ্যে সেবার মান ভালো করার চেষ্টা করছি বলেও জানান তিনি। 
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলার সিভিল সার্জন ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলো ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিক। এই কমিউনিটি ক্লিনিক দেশের তৃণমুল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা খাতে অভুতপূর্ব পরিবর্তন ও সাফল্য নিয়ে  এসেছে। স্বাস্থ্য সেবা এখন মানুষের কাছে পৌছে দিয়েছে বর্তমান সরকার। আর এখন রোগী বাড়ার বিষয়টি সঠিক। কারণ করোনার পরেও বিভিন্ন নানা অসুখ নিয়ে সময়ে আমাদের উপজেলা ও ইউনিয়ন হেল্থ কমপ্লেক্স এ রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের নানা প্রতিকূলতা রয়েছে। আমাদের লোকবলের অভাব, আমাদের তৃণমূলে আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। তবে আমাদের স্বল্প লোকবল ও নানা প্রতিকূলতা নিয়েও আমাদের চিকিৎসক ও সেবিকারা ভালো সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ভালো সেবা দিতে পারায় এটা দেশের তৃণমূলের ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর জন্য উদাহারণ।  আশা করি এ সেবার মান দিন দিন আরো ভালো হবে সামনে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট

একটি মন্তব্য

বিএনপির আন্দোলনের পতন ধ্বনি শোনা যাচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

সেলেনার জীবনের গল্পে ‘মাই মাইন্ড অ্যান্ড মি’