ভিতরে

চট্টগ্রামে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাড়ি ঘেরাও করে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড

 মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর চট্টগ্রামের বাড়ি ‘গুডস হিল’ ঘেরাও করে গেটে প্রতীকি তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে  ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড’। এসময় সালাউদ্দিন কাদেরের ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে গ্রেপ্তারসহ ৫ দফা দাবী পেশ করেছে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।   
শনিবার নগরীর গণি বেকারি সংলগ্ন সাকা চৌধুরীর চট্টগ্রামের গুডস হিলের বাড়ি ঘেরাও করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। চট্টগ্রামে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনটি।
শনিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের নিয়ে করা এ সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ, জামালখান ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, চকবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর মোস্তফা টিনুসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা কর্মসুচিতে অংশ নেন। এসময় কর্মসূচি পালনকারীরা গুডস হিলের প্রবেশপথে দেয়ালে লিখেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর নির্যাতন কেন্দ্র রাজাকারের বাড়ি’।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের অন্য চার দফা দাবি হলো, একাত্তরের  যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের রাজনীতি নিষিদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা করা, মুক্তিযুদ্ধে যে সমস্ত স্পটে সাধারণ মানুষ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতন করা হয়েছে সেগুলোকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ঘোষণা করা, প্রতিটি পাড়া, মহল্লা, ওয়ার্ড ইউনিয়ন পর্যায়ে রাজাকারের তালিকা করে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা।
গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। বক্তব্যে তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘ক্ষমতা ছাড়ার পর একা বাড়ি ফিরতে পারবেন না। সকল শহীদদের কবরে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হবে।’
তিনি ‘নারায়ে তাকবীর’ স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। এর প্রতিবাদে গত ১৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশ করে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য সাতদিনের সময় বেঁধে দেয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড। অন্যথায় গুডস হিল ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠনটির নেতারা।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের দায়ে সাকাপুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করে একমাসের ভেতর গ্রেপ্তারসহ পাঁচ দাবি জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দরা। আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।  
সমাবেশে সংগঠনটির নেতারা বলেন, বঙ্গবন্ধু, মহান মুক্তিযুদ্ধ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ শব্দগুলো আমাদের অস্তিত্ব। সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরীকে তার ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী ‘শহীদ’ বলায় আমরা মনে করি এটা লাল সবুজের পতাকার অবমাননা। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে নির্যাতন করা হতো সাকা চৌধুরীর গুডস হিলের বাড়িতে। পাকিস্তানি ঘাতক বাহিনীকে সঙ্গে করে নিয়ে বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের নারীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাতো এই যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরী। মূলত পাকিস্তানি হানাদারদের পথপ্রদর্শক এবং বাঙালি যুবক, বুদ্ধিজীবী ও সংখ্যালঘুদের গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড ছিল চট্টগ্রামের এই কুখ্যাত সাকা চৌধুরী।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক সাহেদ মুরাদ সাকুর সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহীদুল  হক চৌধুরী সৈয়দ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিনু, ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর শাহীন আক্তার রোজী ও উদীচী চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক শীলা দাশ গুপ্তা প্রমুখ।

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট

একটি মন্তব্য

ডেঙ্গু মোকাবেলায় সচেতনতার আহ্বান মসিক মেয়রের

ভোলায় ফের জমে উঠেছে ইলিশের বাজার