ভিতরে

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সিডনিতে অভিষেক স্মরণীয় করে রাখতে চায় বাংলাদেশ

শক্তিশালী পেস আক্রমন নিয়ে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি)নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেতে  দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপের সুপার টুয়েলভে আগামীকাল নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বাংলাদেশ।  
বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি সরসারি সম্প্রচার করবে গাজী টিভি ও টি-স্পোর্টস চ্যানেল। 
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পুরাতন ক্রিকেট মাঠে প্রথম ম্যাচে আগামীকাল  মাঠে নামাটাই বাংলাদেশকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। এই স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে চায়। এসসিজি নামে পরিচিত এই ভেন্যুতে  প্রথম খেলা হয় ১৮৪৮ সালে এবং ১৮৮২ সালে প্রথম ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করে স্বাগতিকরা।
পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টের দুর্দান্ত নৈপুন্যে হোবার্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৯ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। যা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপের প্রথম আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর মূল পর্বে বাংলাদেশ দলের  প্রথম জয়।  
২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন পেসার তাসকিন আহমেদ। বল হাতে দারুন করেছেন নতুন পেস বোলিং সেনসেশন হাসান মাহমুদও। যদিও উইকেট পাননি আরেক পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। তবে গত এক বছরে মধ্যে তার মিতব্যয়ী বোলিং, নিজের রুপে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগের ৭টি টি-টোয়েন্টিতে কোন লড়াই করতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রতিন্দ্বন্দিতা ছাড়াই সব ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা। ২০২১ সালের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে কোন শীর্ষ দলকে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। তারপরও বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে ভাগ্য দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে  না থাকায় আত্মবিশ্বাসের সাথে লড়াইয়ে নামছে টাইগাররা। 
বাংলাদেশের মতো জয় দিয়ে বিশ^কাপ শুরু করতে পারতো দক্ষিণ আফ্রিকাও। বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস ম্যাচের পর হোবার্টে বৃষ্টি কারনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয় প্রোটিয়াদের। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। 
এক পয়েন্ট হারানোর পর ভারত-পাকিস্তানের মতো জায়ান্টদের বিপক্ষে মুখোমুখি হবার আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি জয় খুবই প্রয়োজন দক্ষিণ আফ্রিকার। ম্যাচ জয়ের চাপ বাংলাদেশের উপরও পড়তে পারে বলে মনে করেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। 
আজ এখানে সাকিব বলেন, ‘তারা অনেক বেশি চাপে থাকবে কারণ এটি তাদের জন্য ডু অর ডাই ম্যাচ।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি জয় আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা একটি পয়েন্ট হারিয়েছে এবং সেটি পূরণ করতে চাইবে তারা। তারা মরিয়া হয়ে খেলবে যেটা  আমাদের সুযোগ করে দিতে পারে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টকে বিপজ্জনক বলে স্বীকার করেছেন সাকিব। তবে বাংলাদেশের ব্যটাররা  প্রতিপক্ষে বোলিংকে ভালোভাবে মোকাবেলা করবে বলেই বিশ^াস করেন সাকিব।
তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, দুর্দান্ত পেস বোলিং আক্রমণ রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। যদিও এই ফরম্যাটে তাদের বিপক্ষে আমাদের কোন সাফল্য নেই। কিন্তু অন্য ফরম্যাটে দেরিতে হলেও আমাদের ব্যাটাররা তাদের সফলভাবে মোকাবেলা করেছে। এটিই   তাদের হারাতে আমাদের আত্মবিশ^াস যোগাবে।’
সাকিবের মতে নেদারল্যান্ডসের অনভিজ্ঞ বোলিং লাইন আপের সামনে নিজেদের মেলে ধরতে না পারার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বাংলাদেশের ব্যাটারদের। টপ অর্ডারের বেশিরভাগ ব্যাটারই ভালো শুরু করতে পারলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। এই ধরনের ব্যাটিং দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বমানের বোলিং লাইন আপের বিপক্ষে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। 
বাংলাদেশ দল সব সময়ই জয়ের কম্বিনেশন ধরে রাখতে চাওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামবে টাইগাররা।
সব মিলিয়ে ১৪০টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সেখানে ৪৮টি ম্যাচে জিতেছে, ৮৯টিতে হেরেছে। বাকি তিনটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। 
বাংলাদেশ দল: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, ইয়াসির আলী চৌধুরি, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ, এবাদত হোসেন। 
দক্ষিণ আফ্রিকা দল : তেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), রেজা হেনডিক্স, হেনরিচ ক্লাসেন, কেশভ মহারাজ, আইডেন মার্করাম, ডেভিড মিলার, লুঙ্গি এনগিদি, এনরিচ নর্টি, মার্কো জানসেন, কাগিসো রাবাদা, রিলি রৌসু, ওয়েইন পারনেল, তাবরাইজ শামসি ও স্তিতান ট্রিস্টান স্টাবস। 

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট

একটি মন্তব্য

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ: সিটির সাথে ড্র করে নক আউট পর্বে ডর্টমুন্ড

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের চাপকে কাজে লাগাতে চান সাকিব