ভিতরে

তলানির দলের কাছে হেরে গেল লিভারপুল, সিটির জয়ে হালান্ডের জোড়া গোল

 প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের তলানির দল নটিংহ্যাম ফরেস্টের কাছে এবার হেরে গেছে জায়ান্ট লিভারপুল। শনিবার সিটি গ্রাউন্ড মাঠে নাইজেরিয়ান এ্যাটাকার তাইয়ো আইয়োনির একমাত্র গোলে রেডদের পরাজয়ের লজ্জা দিয়েছে স্বাগতিক নটিংহ্যাম। দিনের আরেক ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাইটনকে ৩-১ ব্যবধানে  পরাজিত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। 
এদিকে দিনের হাই ভোল্টেজ ম্যাচে চেলসি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কেউ কাউকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। ৮৭ মিনিটে জর্জিনহোর পেনাল্টিতে এগিয়ে গিয়েছিল ব্লুজরা। কিন্তু স্টপেজ টাইমে করা  কাসেমিরোর গোলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়।  এক পয়েন্ট করে ভাগাভাগি করায় কোন দলই শীর্ষে থাকা তিন দল আর্সেনাল, সিটি ও টটেনহ্যামের সাথে পয়েন্টের ব্যবধান কমাতে পারেনি। 
গত সপ্তাহে লিভারপুলের কাছে সিটি মৌসুমের প্রথম পরাজয় বরণ করেছিল। এই জয়ে টেবিলের সাত নম্বরে থাকা জার্গেন ক্লপের দল যতটা না এগিয়েছিল তার থেকে অনেকখানি পিছিয়ে গেছে নটিংহ্যামের কাছে হেরে। টেবিলের তলানিতে থেকে কাল ফরেস্ট ম্যাচ শুরু করেছিল। কিন্তু আগস্টের পর প্রথম এই জয়ে স্টিভ কুপারের দল এখন সেফটি জোন থেকে মাত্র এক পয়েন্ট দুরে রয়েছে। ছয় বছর এ্যানফিল্ডে কাটানো আয়োনি লিভারপুলের জার্সি গায়ে একটি ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি। সেই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকারের কাছে কাল পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে ক্লপ বাহিনীকে। 
ইনজুরিতে থাকা ডারউইন নুনেজ, দিয়োগো জোতা ও লুইস দিয়াজদের ছাড়াই কাল মাঠে নেমেছিল লিভারপুল। এছাড়া থিয়াগো আলচানতারা অসুস্থ থাকায়  খেলতে পারেননি। যে কারনে ফরেস্টকে আটকানো শেষ পর্যন্ত আর সম্ভব হয়নি। কিন্তু সেট-পিস থেকে অনেকগুলো সুযোগ তৈরী করেও তা কাজে লাগাতে পারেনি রেডরা। এর মধ্যে ভার্জিল ফন ডিক তিনটি বড় সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। 
ম্যাচ শেষে ক্লপ বলেছেন, ‘আমরা কেন সেট-পিস থেকে গোল করতে পারলাম না এ ব্যপারে আমার কোন ধারনা নেই। এ কারনেই আমি বলতে চাই পারফরমেন্স বিচারে এই ফলাফল আমাদের সাথে যায়না।’
পরাজয় সত্তেও লিভারপুল এখনো টেবিলের সপ্তম স্থানেই আছে। লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের থেকে তারা বর্তমানে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে।
চেলসিকে ছাড়িয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থান দখলের সুযোগ নষ্ট করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। যদিও ক্লাবের হয়ে কাসেমিরোর প্রথম গোলে তাদের অন্তত এক পয়েন্ট অর্জিত হয়েছে। স্ট্যামফোর্ড ব্রীজে ৮৭ মিনিটে স্কট ম্যাকটোমিনে  ডি বক্সের মধ্যে আরমান্ডো ব্রোয়াকে ফাউল করলে পেনাল্টি উপহার পায় চেলসি। স্পট কিক থেকে জর্জিনহো দলকে এগিয়ে দিতে কোন ভুল করেননি। ৯৪ মিনিটে লুক শ’র ক্রস থেকে কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফিরে ইউনাইটেড। যদিও কেপা আরিজাবালাগা তার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে বলটি প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলেন। নতুন কোচ গ্রাহাম পটারের অধীনে চেলসি এখনো অপরাজিত রয়েছে। কিন্তু পরপর দুই ম্যাচে ড্র করার কারনে আর্সেনালের থেকে ব্লুজদের পয়েন্টের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬।
ইউনাইটেড বস এরিক টেন হাগ বলেছেন, ‘আমি আমার দলকে বড় একটি অভিনন্দন জানাতে চাই। ১০ দিনের মধ্যে চারটি ম্যাচ খেলার পরও নিজেদের লড়াকু মানসিকতা থেকে তারা বেরিয়ে আসেনি। এখানে দলের স্পিরিট লক্ষ্য করা যায়।’
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে দুই গোল করে নরওয়েজিয়ান তারকা হালান্ড তার গোলসংখ্যা সব মিলিয়ে ২২’এ উন্নীত করেছেন। আর্সেনালের থেকে সিটিজেনরা এখন মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। গত সপ্তাহে এ্যানফিল্ডে প্রথমবারের মত এবারের মৌসুমে ১০ ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন হালান্ড। কিন্তু কাল আর কোন ভুল করেননি। এডারসনের লম্বা বল থেকে ২২ মিনিটে ডিফেন্ডার এ্যাডাম ওয়েবস্টারকে কাটিয়ে গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজকে বোকা বানিয়ে খালি জালে বল পাঠান। এরপর ৪৩ মিনিটে স্পট কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুন করেন। এর মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগে তার গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৭। 
অসাধারন প্রতিভাবান এই সতীর্থ সম্পর্কে কেভিন ডি ব্রুইনা বলেছেন, ‘মাঠে সে যেন  গোল করার জন্যই থাকে। এটা সবেমাত্র শুরু, তার যা প্রয়োজন সেটা সে পুরো মৌসুমেই করে দেখাবে।’
নতুন বস রবার্তো ডি জারবির অধীনে ব্রাইটন এখনো জয়ের সন্ধানে থাকা ব্রাইটন ৫৩ মিনিটে লিনড্রো ট্রোসার্ডের গোলে ম্যাচে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু আরো একটি অসাধারন সেট-পিস থেকে বেলজিয়ান তারকা ডি ব্রুইনা কার্লিং শটে সিটির জয় নিশ্চিত করেন। 
গুডিসন পার্কে ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে এভারটন টানা তিন ম্যাচে পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে। ফ্রাংক ল্যাম্পার্ডের দলের জন্য সবচেয়ে সুখবর ছিল ডোমিনিক কালভার্টÑলুইনের ইনজুরি থেকে ফিরে আসা। ম্যাচের ১১ মিনিটেই ইংলিশ এই স্ট্রাইকার মৌসুমের প্রথম গোল করে এভারটনকে এগিয়ে দেন। এন্থনি গর্ডন ৬৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুন করেন। ম্যাচ শেষের ৬ মিনিট আগে ডুয়াইট ম্যাকনেইল তৃতীয় গোল করলে এভারটনের বড় জয় নিশ্চিত হয়। 
এই জয়ে টফিসরা প্যালেসের থেকে গোল ব্যবধানে এগিয়ে ১১তম স্থানে উঠে এসেছে।

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট

একটি মন্তব্য

সেভিয়াকে হারিয়ে আরো এগিয়ে গেল রিয়াল

হফেনহেইমকে হারিয়ে বুন্দেসলিগা টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসলো বায়ার্ন