ভিতরে

এল ক্লাসিকো দিয়ে একে অন্যকে ছাড়িয়ে যেতে চায় রিয়াল-বার্সা

গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জয়ে চাপে মধ্যে থেকেও দুর্দান্ত মানসিক শক্তি প্রমান করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। পিএসজি, চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটির মত বড় দলগুলোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দারুনভাবে ফিরে এসে ফাইনাল নিশ্চিত এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপা ঘরে তোলা যেন ছিল রূপকথার কাহিনী। যখন সব আশাই শেষ হয়ে গিয়েছিল তখনই রিয়াল প্রমান করেছে কিভাবে ম্যাচে ফিরে আসা সম্ভব। 
রোববার মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চির প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে আতিথ্য দিবে গ্যালাকটিকোরা। লা লিগায় এখনো পর্যন্ত উভয় দলই অপরাজিত থেকে ৮ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট করে সংগ্রহ করে টেবিলের শীর্ষ দুটি স্থান ধরে রেখেছে। যদিও কাতালান জায়ান্টরা আরো একবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কায় কিছুটা হলেও মানসিক ভাবে পিছিয়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইন্টার মিলানের সাথে ক্যাম্প ন্যুতে ৩-৩ গোলে ড্র করে খাদের কিনারা থেকে নিজেদের টেনে তুললেও এখনো ইউরোপীয়ান আসর থেকে বিদায় শঙ্কা কাটেনি। অন্যদিকে ইতোমধ্যেই শেষ ১৬ নিশ্চিত করে অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে মাদ্রিদ। 
গত মৌসুমে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বার্সেলোনা রিয়ালকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল। যদিও ঐ ম্যাচেও তারা(বার্সেলোনা) আন্ডারডগ হিসেবেই মাঠে নেমেছিল। ইউরোপীয়ান আসরে এবার সবচেয়ে কঠিন গ্রুপে পড়া বার্সেলোনা মিলানে রেফারির বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছে। এছাড়াও দলে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ইনজুরিতে থাকায় সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কাতালান জায়ান্টদের যাত্রাটা মোটেই সুখকর হয়নি। ইন্টারের বিপক্ষে ড্র করার পর বার্সা কোচ জাভি বলেছিলেন, ‘এটা সত্যিই বাজে একটি ম্যাচ ছিল। এখন আমাদের মাদ্রিদের বিপক্ষে ক্লাসিকো নিয়ে চিন্তা করতে হবে। বার্নাব্যুতে মাদ্রিদকে হারানো মোটেই সহজ কাজ নয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এক পাশে রেখে লা লিগায় মনোনিবেশ করতে হবে। আমরা টেবিলের শীর্ষে রয়েছি এবং সেখানেই থাকতে চাই। আশা করছি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফলাফল মনস্তাত্বিক ভাবে আমাদের ওপর প্রভাব ফেলবে না।’
হতাশা কাটিয়ে মাদ্রিদের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে হলে বার্সেলোনাকে সঠিক মানসিকতা নিয়ে খেলতে হবে। দৃঢ় মনোবলই একমাত্র উজ্জীবিত মাদ্রিদের বিপক্ষে বার্সাকে এগিয়ে নিতে পারে। নিজেদের সুযোগগুলো সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে না পারলে ভেঙ্গে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। ইন্টার মিলানের বিপক্ষে বার্সেলোনা বিরতির ঠিক আগে গোল আদায় করে নিয়েছিল। ওসমানে ডেম্বেলের গোলে ৪০ মিনিটে তারা এগিয়ে যায়। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে নিকোলো বারেলার গোলে সমতায় ফিরে ইন্টার। আর এই গোলের পরপরই তাদের রক্ষনভাগ এলোমেলো হয়ে পড়লে আরো এক গোল হজম করতে হয়। গত সপ্তাহে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে লা লিগায় একই ঘটনা ঘটেছিল। ঐ ম্যাচে গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টার স্টেগানের কৃতিত্বে কোনমতে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সা। বার্সেলোনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলে, আর এটা মাদ্রিদের বিপক্ষে হলে শাস্তিও যে সাথে সাথে পাবে তা সহজেই অনুমেয়। 
মঙ্গলবার ওয়ারশতে শাখতার দোনেৎস্কর বিপক্ষে অবশ্য খুব একটা ভাল খেলেনি মাদ্রিদ। ৯৫ মিনিটে এন্টোনিও রুডিগারের হেডের গোলে তাদের ১-১ গোলের ড্র নিশ্চিত হয়। যদিও নক আউট পর্ব নিশ্চিতে এই এক পয়েন্টই যথেষ্ট ছিল। রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আমরা একটি বিষয় প্রমান করেছি যে কখনই ম্যাচ ছেড়ে দেবার মত দল আমরা না। আমরা বাজে খেলেছি, আর এটা ফুটবলে হয়ে থাকে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যখন কোন কিছুই পরিকল্পনা মত হয়না তখন ম্যাচ ছেড়ে না দেবার মানসিকতা ধরে রাখা।’
করিম বেনজেমা নিজেকে ফিট প্রমান করে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলবিহিন থাকার পর বড় ম্যাচে মূল একাদশে নামার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। সোমবার প্যারিসে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার ঘোষনার সময় বেনজেমাই যে টপ ফেরাবিট থাকবেন তা নিয়ে কোন শঙ্কা নেই। বার্সেলোনায় তার প্রতিপক্ষ রবার্ট লিওয়ানদোস্কি এ পর্যন্ত ৯ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। সতীর্থরা যেখানে নিজেদের প্রমানে হিমশিম খেয়েছে সেখানে ইন্টারের বিপক্ষে লিওয়ানোদোস্কি দুই গোল করে বার্সাকে রক্ষা করেছেন। 
লা লিগায় মাত্র একটি ম্যাচে কোন গোল হজম করেনি রিয়াল মাদ্রিদ। বিপরীতে মাত্র একটি ম্যাচে গোল হজম করার পরেও বার্সেলোনার রক্ষনভাগ নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ধারনা করা হচ্ছে জুলেস কুন্ডে ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরে আসবেন। বার্সা গোলরক্ষক টার স্টেগান এবারের মৌসুমে ২০টি শটের মধ্যে ১৯টি শটই রক্ষা করেছেন, লা লিগায় গোল হজম করেছেন মাত্র একটি। 
এবারের মৌসুমে সান্তিয়াগোতে খেলা তিনটি ম্যাচেই অপরাজিত রয়েছে স্বাগতিক রিয়াল, এর মধ্যে দুটিতে জয় ও একটিতে ড্র হয়েছে। গত ৯ এপ্রিল গেতাফের বিপক্ষে ঘরের মাঠে জয়ের পর জয়ের ধারা সাত ম্যাচে নিয়ে যাবার সুযোগ এখন লস ব্ল্যাঙ্কোসদের সামনে। অন্যদিকে বার্সেলোনাও টানা ১৯ এ্যাওয়ে ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে। সর্বশেষ ২০২১ সালের অক্টোবরে রিয়াল সোসিয়েদাদের মাঠে তারা পরাজিত হয়েছিল। 

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট

একটি মন্তব্য

কেরানীগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে গ্রীস্মকালীন টমেটো

এ্যাস্টন ভিলার সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করলেন মিডফিল্ডার ডগলাস লুইজ