ভিতরে

গোপালগঞ্জে বাড়ির আঙ্গিনার ৫৮৫ একর পতিত জমিতে সবজি চাষ

॥ মনোজ কুমার সাহা ॥
টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ), ১০ অক্টোবর, ২০২২ : জেলায় বাড়ির আঙ্গিনার ৫৮৫ একর পতিত জমি সবজি চাষের আওতায় এসেছে। এসব জমিতে সারাবছর প্রান্তিক নারী ও কৃষক সবজি উৎপাদন করছে।
এসব শাক সবজি তারা পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করছে। এতে তাদের পুষ্টির চাহিদা পুরণ হচ্ছে। সেই সাথে বাজারে শাক সবজি বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছেন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ বলেন, সারা বিশ্বে করোনা মহামারী শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন এক ইঞ্চি জমিও আনাবাদী থাকবে না। সরকার কৃষককে সার, বীজসহ সবধরণের উপকরণ দিয়ে বসত বাড়ির আঙ্গিনার দেড় শতাংশ পতিত জমিতে পাবিরাবিক পুষ্টি বাগান করে দেয়ার প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রান্তিক নারীদের প্রাধান্য দিয়ে আমরা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৯০টি পারিবারিক পুষ্টি বাগান সৃজন করে দিয়েছি। এতে ৫৮৫ একর জমি শাক সবজি চাষের আওতায় এসেছে। এখানে সারাবছর প্রান্তিক নারী ও কৃষক লাল শাক, ডাটা শাক , পুই শাক, পালং শাক, ঘি কাঞ্চন শাক, বাটি শাক, গিমা কলমী শাক, ধনেপাতা, বরবটি, সিম, লাউ, কুমড়া, চালকুমড়া, বেগুন, টমেটো, মরিচ, ঢ্যাঁড়শ, চিচিঙ্গা, শসা, ধুন্ধল, বিটকপি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পেঁপে, মুলা উৎপাদন করছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, কালিকাপুর মডেলে মাত্র দেড় শতাংশ জমিতে পাবিরারিক পুষ্টি বাগানে ৫টি বেড করা হয়। বাগানের ২ সাইডে মাচা ও অপর ২ সাইডে বেড়া দেয়া হয়। বেডে পাতা জাতীয় সবজির চাষাবাদ করা হয়। মাচায় লতা জাতীয় সবজির আবাদ হয়। আর বেড়ায় বরবটি ও সিমের চাষাবাদ হয়। কৃষক সারাবছর এখানে ২৫ থেকে ৩০ রকমের শাক সবজি উৎপাদন করতে পারেন। এই শাক সবজি দিয়ে প্রান্তিক নারী ও  কৃষক পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পুরণ করছেন। পাশাপাশি বাড়তি সবজি বাজারে বিক্রি করে টাকা কামাচ্ছেন। এতে প্রান্তিক নারী ও কৃষক সাবলম্বী হচ্ছেন।
সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া গ্রামের প্রান্তিক নারী রূপা বিশ্বাস  বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস ১৮ প্রকার শাক সবজির বীজ, ৬ কেজি ইউরিয়া, ১১ কেজি ডিএপি, ৫ কেজি এমওপি ৩ দশমিক ৮ কেজি জীপসাম সার, ১টি নেট, ১টি বীজ পাত্র, ১টি পানি দেয়ার ঝর্না বিনামূল্যে দিয়েছে। এগুলো পেয়ে আমরা গোবরা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পার্বতী বৈরাগীর পরামর্শে বাড়ির আঙ্গিনায় পতিত দেড় শতাংশ জমিতে পারিবারিক পুষ্টি বাগান করেছি। এখানে সারাবছর শাক-সবজি উৎপাদন করছি। এগুলো আমরা খাচ্ছি। প্রতিবেশী ও স্বজনদের দিচ্ছি। বাড়তি সবজি বাজারে বিক্রি করে টাকা আয় করছি। এতে সংসারের আয় বাড়ছে। আমরা সাবলম্বী হচ্ছি। ছোট এক খন্ড জমিতে পুষ্টি বাগান করছি। কিন্তু এর প্রভাব ব্যাপক। এমন বাগানের চিন্তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে এসেছে। এই বাগান করে আমরা ভাল আছি। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।
একই ইউনিয়নের চরগোবরা গ্রামের অনিমা বিশ্বাস বলেন, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শাক-সবজি। এছাড়া পুষ্টি দেয়। এগুলো সদর উপজেলা কৃষি অফিস আমাদের জানিয়েছে। তাদের সব ধরণের সহযোগিতা ও উৎসাহে আমি পারিবারিক পুষ্টি বাগান করেছি। করোনার সময় নিজের বাগানে উৎপাদিত শাক-সবজি খেয়ে করোনাকে পরাস্ত করেছি। এই শাক-সবজি আমাদের পরিবারের সারা বছরের পুষ্টির চাহিদা পুরণ করে চলেছে। তাই এই প্রযুক্তিকে আমি গ্রহণ করেছি। সরকার পারিবারিক পুষ্টি বাগানে বীজ, সার সহায়তা বন্ধ করে দিলেও আমি পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এই বাগান টিকিয়ে রাখব।
গোপালগঞ্জ ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অসিত কুমার মল্লিক বলেন, মেধাবী জাতি গঠনে পুষ্টির কোন বিকল্প নেই। শাক-সবজি আমাদের পুষ্টির চাহিদা অনেকাংশে পুরণ করে। এটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শাক-সবজির পুষ্টি গুন মেধাবী প্রজন্ম গড়তে সহায়তা করে। তাই আমাদের বেশি-বেশি করে শাক-সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জিএম পলিউল ইসলাম বলেন, আমরা চলতি অর্থ বছরে সরকারি সহায়তায় বাড়ির আঙ্গিনার পতিত আরো ৬০০ একর জমি সবজি চাষের আওতায় নিয়ে আসব। এতে করে উপজেলায় ১ হাজার ১৮৫ একর পতিত জমি শাক-সবজি চাষের আওতায় আসবে। এভাবে প্রতিবছর আমরা বসত বাড়ির আঙ্গিনার পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় এনে শাক-সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি করব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ বাস্তবায়ন করব।  গোপালগঞ্জে এক ইঞ্চি জমিও আনাবাদী থাকবে না।

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট

একটি মন্তব্য

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বঙ্গভবনে দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত

বিতর্কিত সুপার লিগ থেকে সরে আসবে না রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও জুভেন্টাস