ভিতরে

মহামারী সত্ত্বেও বাংলাদেশ বৈশ্বিক বিনিয়োগ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে : বেজার নতুন প্রধান

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নবনিযুক্ত নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বলেছেন, বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ প্রবাহ ধীর হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের একটি কেন্দ্র হয়ে উঠছে যা দেশকে ভিশন-২০৪১ অর্জনে সহায়তা করবে। 
তিনি বলেন, খুব কম শ্রম ব্যয়, দক্ষ জনশক্তি, অনুকূল সরকারী নীতি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উচ্চ উৎপাদনশীলতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কোভিড-১৯ মহামারী সত্ত্বেও বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক বিনিয়োগ কেন্দ্রে পরিণত করেছে। 
সম্প্রতি বাসস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অনেক বিশ্বখ্যাত বিদেশি সংস্থা এখানে বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আসছে। 
তিনি উল্লেখ করেন, পরিকল্পিত শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে সারা দেশে ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ চলছে। 
বেজা প্রধান বলেন, পরিকল্পিত শিল্পায়নের জন্য বেজা সেরা জায়গা। মহামারী সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিভিন্ন বন্দর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ), বেজা এবং বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বিইপিজেএ) মাধ্যমে সব ধরনের সেবা উন্মুক্ত রাখছে। দেশ ও বিদেশের বিনিয়োগকারীরা সহজেই পরিষেবাগুলো পাচ্ছেন। 
বেজা প্রধান বলেন, মহামারীর কারণে বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ কঠিন হয়ে উঠছে, কিন্তু বাংলাদেশ বিনিয়োগের দরজা খোলা রেখেছে। 
এক প্রশ্নের জবাবে শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, সিভিল সার্ভিসে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করে তিনি বেজা-কে বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় স্থান করে তুলতে চান। 
তিনি বলেন, আমি ৩২ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিভিল সার্ভিসে কাজ করছি। আমি বিভিন্ন ক্ষেত্র  থেকে দক্ষতা সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছি। সুতরাং, আমি আমার দক্ষতা ব্যবহার করে বেজা তৈরি করতে চাই। 
তিনি বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে এবং এর জন্য বেজার মতো অর্গ্রানাইজেশনকেও তাদের লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করতে হবে। 
শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, বেজা সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করে প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে পণ্য রপ্তানি করে অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলার উপার্জনের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। বেজা গভর্নিং বোর্ড ইতোমধ্যে ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমির অবস্থান ও পরিমাণ অনুমোদন করেছে। এগুলোর মধ্যে ৬৮টি সরকারী অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ২৯টি বেসরকারী অর্থনৈতিক অঞ্চল। অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে নয়টি অঞ্চল ইতোমধ্যে উৎপাদনে গেছে এবং ২৮টি অঞ্চলের উন্নয়ন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। 
বেজা প্রধান বলেন, ৩৯টি শিল্প কারখানার নির্মাণ কাজ চলছে এবং ২৭টি শিল্প কারখানা উৎপাদনে গেছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো ইতোমধ্যে প্রায় ৪১ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। বেজা একক উইন্ডোতে দেশের বিনিয়োগকারীদের সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিষেবা প্রদানের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) কেন্দ্রও চালু করেছে। বেজা ওএসএস কেন্দ্রের অধীনে মোট ১২৫টি পরিষেবা প্রদান করছে। 
শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, পরিষেবার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা এখন অনলাইনের মাধ্যমে ৪৮টি পরিষেবা পাচ্ছেন।

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট
উত্তর দিন

মন্তব্য করুন

তৃণমূলের রেমিটেন্স যোদ্ধাদের সেবায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের আরো ৩টি নতুন শাখা উদ্বোধন

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘অভিন্ন স্বার্থ’ রয়েছে : পুতিন