ভিতরে

হবিগঞ্জের কোরবানীর হাটের আকর্ষণ রাজা ও বাদশা

জেলায় এবার কোরবানীর হাটের আকর্ষণ শায়েস্তাগঞ্জের রাজা এবং বানিয়াচংয়ের বাদশা। কোরবানীর হাটে না উঠেও ফেইসবুকে ভাইরাল হয়েছে আলোচিত এ দুই দেশীয় ষাড়। বাদশার দাম হাকানো হচ্ছে ১০ লাখ টাকা এবং রাজার দাম হাকানো হচ্ছে ৫ লাখ টাকা।
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের আতুকুড়া-করিমনগর গ্রামের কৃষক আজিজুল মিয়ার বাড়ির পালিত দেশীয় একটি গাভী আড়াই বছর পূর্বে একটি ষাড় বাচ্চা জন্ম দেয়। জন্মের পরই বাচ্চার নাম রাখা হয় বাদশা। বাদশা জন্মের পর মায়ের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে স্বাভাবিক ভাবে লালন পালন শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে বাড়ীর আঙ্গিনার জমি তৈরী ঘাস, খৈল ভূষি, খুড়া খাওয়ানো হয়। এগুলো খাওয়ানোর মাধ্যমে বাদশা বেড়ে উঠে। গত ৫ জুন কৃষক আজিজুল মিয়া বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ আয়োজিত প্রাণি প্রদশর্নীতে উপজেলার শ্রেষ্ট পশু হিসেবে নির্বাচিত হয় বাদশা। আজিজুল মিয়ার হাতে পুরস্কার হিসেবে নগদ ৫ হাজার টাকা তুলে দেয় উপজেলা প্রশাসন। এবারের ঈদুল আযহা সামনে রেখে কৃষক আজিজুল মিয়া কোরবাণীর হাটে বাদশাকে বিক্রি জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এলাকার লোকজন বাদশাকে দেখার জন্য প্রতিদিনই তার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন। বাদশাকে লালন পালন করতে দেশীয় খাবারের সাথে আড়াই বছরে খাবার ও চিকিৎসা বাবদ তার আরো ২ লাখ টাকা  খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক আজিজুল মিয়া। তবে এবারের বাজারে গরুটি (বাদশা) এর দাম দেখে তিনি বিক্রি করতে চান। ওই বিশাল আকৃতির গরুটির লালন পালনে কোন মোটা তাজা করণের ইনজেকশনও পুশ করা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। 
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, এতো বড় আকারের গরু অত্র এলাকায় আর কেউ লালন পালন করেননি। তাই কৃষক আজিজুল মিয়ার বাদশাকে দেখার জন্য লোকজন প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন। কৃষক আজিজুল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, বাদশাকে দেখার জন্য লোকজনি ভড় জমাচ্ছেন। এ সময় অনেকেই বাদশা’র দাম এবারের বাজারে কত টাকা হতে পারে এ নিয়ে আলোচনা করছেন।
কৃষক আজিজুল মিয়া জানান, বাদশা এর উচ্চতা হবে সাড়ে ৬ ফুট, লম্বায়৯ ফুট, বুকের মাপ সাড়ে ৮ফুট। বাদশা থেকে  ২০/২২ মণ মাংস হবে বলে আজিজুজল মিয়া জানান। তিনি এবারের পশু হাটে সেটি ১০ লাখ টাকা বিক্রি করতে চান। এছাড়াও আজিজুল মিয়ার খামারে আরো ১১ টা গরু রয়েছে। 
এদিকে হবিগঞ্জের  শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কুতুবেরচক  গ্রামের ইকবাল মিয়ার পালিত ষাঁড়ের নাম রাজা। এ বছরে উপজেলার সর্ববৃহৎ কোরবানির পশু বলেই ধরা হচ্ছে এ ষাঁড়টিকে। তাইতো আদর করে রাজা নাম দিয়েছেন খামারী। ৯ ফুট ৩ ইঞ্চি লম্বা,  ৫ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতা আর ওজন ২১ মণ ৪ বছর বয়সী রাজারা দামা হাকানো হচ্ছে ৫ লাখ টাকা। 
ইকবাল মিয়া জানান, এ ষাঁড়ের জন্য প্রতিদিনের বাজেট প্রায় ৫শ টাকা। খাবারের মেন্যুতে থাকে  খৈইল,ক্ষের, ভূষি, ধানের কুড়া, ডাল আর নিজের জমিতে লাগানো ঘাস।রাজা কে দেখতে প্রতিদিন বাড়িতে ভিড় করেন উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ।  
লামিয়া ডেইরি ফার্মের স্বত্তাধিকারি ইকবাল মিয়া বলেন সেনাবাহিনীতে সার্জেন্ট হিসেবে চাকুরি করতেন। অবসরে আসার পর ৫ বছর আগে ১২ টি গাভী নিয়ে লামিয়া ডেইরী ফার্ম শুরু করেন। দুধ বিক্রি করেন আশেপাশের এলাকায়। একটি গাভীর বাচ্চা খুব দ্রুত বড় হতে থাকে। এজন্য এর নাম রাখেন রাজা। এ চার বছরে বিশুদ্ধ খাবার খেয়ে বড় হয়েছে রাজা। কোন প্রকার মোটাতাজার ওষুধ বা ইনজেকশন ছাড়াই গরুটির ওজন ২১ মণ হয়েছে। গত কোরবানীর ঈদের সময় গরুটি হাটে তুলে আশানুরোপ দাম না পাওয়ায় বিক্রি করেননি এবার তিনি রাজার দাম হাঁকাচ্ছেন ৫ লাখ টাকা। 
তিনি আরও বলেন ঢাকায় হলে এ গরু ৮/১০ লাখ টাকা দাম হইতো। কিন্তু মফস্বলে এতো দামে কেউ কিনবে না, তাই ৫ লাখ টাকা দাম চাই।

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট
উত্তর দিন

মন্তব্য করুন

বরিশালে অনলাইন ও এফবিতে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট

কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষকসহ দুইজন নিহত