ভিতরে

বেলজিয়ামকে টপকে যেতে চায় রোনাল্ডোর পর্তুগাল

ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর মত একজন সতীর্থ দলে থাকলে সেই দলটির চেহারাই অন্যরকম হবার কথা, প্রত্যাশার সাথে মিল রেখে হয়েছেও তাই। ২০১৬ ইউরোর চ্যাম্পিয়নরা যে রোনাল্ডোর কাঁধে হাত রেখে প্রথমবারের মত বৈশ্বিক বড় কোন টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল সেই রোনাল্ডোই আবারো চার বছর পর পর্তুগালকে আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে।
গ্রুপ পর্বের বাঁধা পেরিয়ে কাল নক আউট পর্বের প্রথম ম্যাচে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল বেলজিয়াম। এবারের আসরে জার্মানী ও ফ্রান্সের সাথে ডেথ গ্রুপে থাকা পর্তুগালের জন্য নক আউট পর্বের পথটাও মোটেই সহজ ছিলনা। হাঙ্গেরির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের মাধ্যমে ইউরো মিশন শুরু, এরপর জার্মানীর কাছে ৪-২ গোলে পরাজয়ের পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের সাথে ২-২ গোলের ড্রয়ে গ্রুপ-এফ‘র তৃতীয় দল হিসেবে পরের রাউন্ডে ওঠে পর্তুগাল।
কাল সেভিয়ায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে  শেষ ১৬‘র লড়াইয়ে মাঠে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নক আউট পর্বের অন্যতম ব্লকবাস্টার এই ম্যাচে টুর্নামেন্টের ফেবারিট যেকোন একটি দলকে বিদায় নিতে হচ্ছে।
গোল্ডেন বুটের ট্রফি জয়ে রোনাল্ডো ও বেলজিয়াম তারকা রোমেলু লুকাকু উভয়ই এগিয়ে রয়েছেন। গ্রুপ পর্ব শেষে রোনাল্ডোর নামের পাশে পাঁচ গোল যোগ হলেও লুকাকু করেছেন তিন গোল।
বুদাপেস্টের পুসকাস এরিনাতে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের সাথে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পর্তুগাল এক পয়েন্ট যোগ করলেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে সমানে সমান লড়াইয়ের পর ফার্নান্দো সান্দোসের দলের যে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে সেটাই কাজে বেলজিয়ামের বিপক্ষে কাজে লাগাতে চায় পর্তুগীজরা। জার্মানীর বিপক্ষে বিধ্বস্ত হবার পর ফ্রান্সের বিপক্ষে যেভাবে পুরো দল ফিরে এসে আগ্রাসী মনোভাব দেখিয়েছে তাতে ২০১৬ ইউরো ও তিন বছর পর প্রথমবারের মত আয়োজিত নেশন্স লিগের শিরোপা পাওয়া পর্তুগালের কথাই সবাই মনে করেছে। ফরাসিদের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্রয়ের ম্যাচ শেষে উচ্ছসিত পর্তুগীজ বস সান্তোস বলেছিলেন, ‘আমরা আজ শক্তিশালী ও ধারাবাহিক ম্যাচ উপহার দিয়েছি। খেলোয়াড়রা একে অন্যকে সহযোগিতা করেছে। আমরা ভাল কিছু আক্রমনও করেছি। জার্মানীর বিপক্ষে ম্যাচের পর আমরা অনেক উন্নতি করেছি।‘
গত দুই বছর ধরে প্রথাগত ৪-৩-৩ ফর্মেশনেই ফিরে আসা ও মূল একাদশে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে যে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সান্তোস নক আউট পর্ব নিশ্চিত করে  তার জবাবাও দিয়েছেন। প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থ উইলিয়াম কারভালহো ও ব্রুনো ফার্নান্দেসের স্থানে পল পগবা ও এন‘গোলো কন্তের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তরুণ রেনেটো সানচেজ ও অভিজ্ঞ হুয়াও মুটিনহোকে নামানো হয়। জার্মানীর বিপক্ষে যে ধরনের নির্দেশনা পর্তুগাল খেলতে পারেনি তা কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা করেছেন ৩৪ বছর বয়সী মুটিনহোই। সান্তোস বলেন, ‘আমরা বিশ্বের যেকোন সেরা দলের বিপক্ষেই লড়াই করতে প্রস্তুত আছি। এই বিষয়টিতে হয় আমাদের বিশ্বাস করতে হবে। কারন এর প্রমান আমরা ইতোমধ্যেই দিয়েছি। কোন দলই এখন আর পর্তুগালকে সহজ দল মনে করেনা।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে এক রোনাল্ডোই হয়ে উঠতে পারেন সবচেয় বিপদজনক। ৩৬ বছর বয়সী এই জুভেন্টাস সুপারস্টার আরো একবার বড় আসরে নিজেকে প্রতিদিনই নতুন রূপে প্রমান করছেন। একের পর এক গোল করে দলকে রক্ষা করার পাশাপাশি বেশ কিছু রেকর্ড করে ফেলেছেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে এর আগের ছয় ম্যাচে কোন সময়ই গোল করতে পারেননি রোনাল্ডো। কিন্তু দুই পেনাল্টিতে শতভাগ সফল হয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। ২০০৪ সালে দুটি, ২০০৮‘একটি এবং ২০১২ ও ২০১৬ ইউরোতে যথাক্রমে তিনটি করে গোল করার পর এবারই সর্বোচ্চ পাঁচ গোল করলেন। সব মিলিয়ে ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপে মিশেল প্লাতিনির করা ৯ গোলের রেকর্ড ভেঙ্গে ১৪ গোলসহ সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় এখন রোনাল্ডো সবার উপরে। এছাড়া ফ্রান্সের বিপক্ষে রোনাল্ডো সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলের তালিকায় শীর্ষে থাকা ইরানের আলি দাইয়ের ১০৯ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন।

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট
উত্তর দিন

মন্তব্য করুন

শতভাগ নাগরিক সেবা অনলাইনে নিয়ে আসা হবে : আইসিটি প্রতিমন্ত্রী

২০২২‘এর পরেও সাউথগেটকেই কোচ হিসেবে চায় ইংল্যান্ড