ভিতরে

চট্টগ্রামে শহরের চেয়ে গ্রামে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ফের বেশি

চট্টগ্রামে আবারো শহরের চেয়ে গ্রামে করোনায় আক্রান্ত বেশি হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২৪৭ জনের শরীরে  সংক্রমণ ধরা পড়ে, যা চলতি জুন মাসের সর্বোচ্চ। সংক্রমণ হার ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ সময়ে এক করোনা রোগীর মৃত্যু হয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের রিপোর্টে বলা হয়, গতকাল বুধবার নগরীর নয়টি, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের ১ হাজার ১৬২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে নতুন শনাক্ত ২৪৭ জনের মধ্যে শহরের বাসিন্দা ১২৩ জন এবং এগারো উপজেলার ১২৪ জন। ফলে জেলায় এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫৬ হাজার ৮৮০ জনে। সংক্রমিতদের মধ্যে শহরের ৪৪ হাজার ৬২৭ জন ও গ্রামের ১২ হাজার ২৫৩ জন। উপজেলা পর্যায়ে গতকাল শনাক্ত ১২৪ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ ফটিকছড়িতে ৩৪ জন, রাউজানে ২১ জন, হাটহাজারীতে ২০ জন, সীতাকু- ও রাঙ্গুনিয়ায় ১৬ জন করে, মিরসরাইয়ে ৮ জন, বোয়ালখালীতে ৫ জন এবং সন্দ্বীপ, পটিয়া, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় ১ জন করে রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় গ্রামের একজনের মৃত্যু হয়। ফলে জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা এখন ৬৬৬। এর মধ্যে ৪৬৪ জন শহরের ও ২০২ জন গ্রামের। সুস্থতার ছাড়পত্র দেয়া হয় ১৬৪ জনকে। ফলে মোট আরোগ্য লাভকারীর সংখ্যা ৪৮ হাজার ১৩৭ জনে উন্নীত হলো। এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬ হাজার ৩৫৩ জন ও ঘরে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসায় সুস্থ হন ৪২ হাজার ১৮৫ জন। হোম আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টাইনে যুক্ত হন ৪৩ জন ও ছাড়পত্র নেন ৬২ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১ হাজার ১২৮ জন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে গতকাল আরো একবার করোনায় আক্রান্ত শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি শনাক্ত হয়েছে। এর আগে ১৯ জুন মোট সংক্রমিত ১৩৬ জনের মধ্যে শহরের বাসিন্দা ছিলেন ৬৭ জন ও গ্রামের ৬৯ জন। সংক্রমণ হার ২১ দশমিক ১৮ শতাংশ। গতকাল আক্রান্তের সংখ্যা চলতি জুন মাসের একদিনের সর্বোচ্চ, ২৪৭ জন। তবে সংক্রমণ হার সবচেয়ে বেশি ছিল ১৩ জুন, ২৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এদিন করোনায় ৩ রোগীর মৃত্যু হয়। একদিনে সবচেয়ে কম আক্রান্ত শনাক্ত হয় ৬ জুন, ৬০ জন। মাসের সর্বনি¤œ ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ সংক্রমণ হার রেকর্ড হয় ১২ জুন। গতকাল একজনের মৃত্যু হওয়ায় এ মাসের প্রথম ২৩ দিনে করোনায় মৃতের সংখ্যা এখন ৪৪ জন। মাসের সর্বোচ্চ ৪ জন করে মারা যান দুই দিন, ১৭ ও ২০ জুন। মৃত্যুশূন্য ছিল তিনদিন।
ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, গতকাল সবচেয়ে বেশি ৩৯৮ জনের নমুনা পরীক্ষা হয় ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে। এখানে শহরের ২৯ ও গ্রামের ১৭ জন জীবাণুবাহক চিহ্নিত হন। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ১৭০ জনের নমুনায় শহরের ১৭ ও গ্রামের ৬ জন পজিটিভ শনাক্ত হন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবে ১৫৬ টি নমুনার মধ্যে শহরের ১১ ও গ্রামের ৭৪ টিতে করোনার ভাইরাস পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ১০৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় শহরের ১২ ও গ্রামের ১৩ জনের শরীরে জীবাণুর উপস্থিতি ধরা পড়ে। নগরীর বিশেষায়িত কোভিড চিকিৎসা কেন্দ্র আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবরেটরিতে (আরটিআরএল) ১৭ জনের নমুনা পরীক্ষা হলে গ্রামের ২ জনসহ ৯ জনের নমুনায় ভাইরাসের উপস্থিতি মেলে। পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষিত ২ টি নমুনার একটিতে করোনার জীবাণু পাওয়া যায়।
বেসরকারি ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির মধ্যে শেভরনে ১৫০ নমুনা পরীক্ষায় শহরের ১৫ ও গ্রামের ৪ জন, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ৯৭ নমুনার মধ্যে গ্রামের ২ টিসহ ১৮ টি, মা ও শিশু হাসপাতালে ৪৫ নমুনায় শহরের ৯ ও গ্রামের ৫ টি এবং মেডিকেল সেন্টারে ১৩ নমুনা পরীক্ষা করে শহরের ৭ টিতে করোনার জীবাণু থাকার প্রমাণ মেলে।
অপর বেসরকারি ল্যাবরেটরি এপিক হেলথ কেয়ারে এদিন কোনো নমুনা পরীক্ষা হয়নি। তবে, চট্টগ্রামের ৮ টি নমুনা কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় সবক’টিরই রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।
ল্যাবভিত্তিক রিপোর্ট বিশ্লেষণে সংক্রমণ হার পাওয়া যায়, বিআইটিআইডি’তে ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ, সিভাসু’তে ১৩ দশমিক ৫৩, চবি’তে ৫৪ দশমিক ৪৯, চমেকে ২৩ দশমিক ৫৮, আরটিআরএলে ৫২ দশমিক ৯৪, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শতাংশ, শেভরনে ১২ দশমিক ৬৬, ইম্পেরিয়ালে ১৮ দশমিক ৫৫, মা ও শিশুতে ৩১ দশমিক ১১, মেডিকেল সেন্টারে ৫৩ দশমিক ৮৪ এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে শূন্য শতাংশ।

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট
উত্তর দিন

মন্তব্য করুন

রাজধানীতে মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৬৯

এডিপি বাস্তবায়নের হার ৭৬ ভাগ