ভিতরে

গাজীপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে দুই প্রকল্পের অনুমোদন

গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) দুইটি পৃথক প্রকল্পের অনুমোদন করেছে। এই দুই প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৫০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সভাকক্ষে একনেক চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চলতি অর্থবছরের ২৭তম একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণবভন থেকে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন। 
একনেক সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রকল্পের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি জানান, ২৭তম একনেক সভায় মোট ১০ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে ৭টি নতুন প্রকল্প ও তিনটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। তিনি বলেন,‘১০ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৪ হাজার ১৬৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা,যার মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৪ হাজার ১২৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৪০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।’
মান্নান বলেন, গাজীপুরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অনুমোদিত ‘গাজীপুর জেলা পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৬৮৫ কোটি টাকা এবং ‘গুরুত্বপুর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প; জেলা টাঙ্গাইল’ এর বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। 
তিনি জানান, গাজীপুর জেলা পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৬৫ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্ত করা হবে। এছাড়া  ৯১ দশমিক শূন্য ৩ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক এবং ২৮৭ দশমিক ১২ কিলোমিটার গ্রাম সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্ত করা হবে। পাশাপাশি ৫টি ব্রিজ ও ২ টি গ্রোথ সেন্টার নির্মাণ করা হবে।
অন্যদিকে ‘গুরুত্বপুর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প; জেলা টাঙ্গাইল’ এই প্রকল্পের আওতায় ২০ দশমিক শুন্য ৪ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ৭৩ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক ও  ৫৯৭ দশমিক ১১ কিলোমিটার গ্রাম সড়ক উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া ১৪৭ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার রাস্তা পুনর্বাসন ও ইউনিব্লকের মাধ্যমে ১০ দশমিক ৫০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ১০০২ মিটারের ২৪টি ব্রিজ, ২৫৬০ মিটারের প্রোটেকটিভ ওয়ার্কস ও ২৬টি গ্রোথ সেন্টার নির্মাণ করা হবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নে একনেক সভায় ২৬১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জ জেলার পল্লী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ জেলার পল্লী এলাকায় বসবাসরত জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গোপালগঞ্জ জেলায় ঘনবসতীপূর্ণ গ্রামসমূহে পর্যায়ক্রমে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা করা হবে।
মান্নান জানান, প্রধানমন্ত্রী ভূ-গর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ভূ-উপরস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এছাড়া, তিনি প্রত্যেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত গবেষণা পরিচালনার জন্য মাস্টার প্ল্যান গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হলো- নোয়াখালী সড়ক বিভাগাধীন ক্ষতিগ্রস্ত কবিরহাট-ছমিরমুন্সীরহাট-সোনাইমুড়ী সড়ক এবং সেনবাগ-বেগমগঞ্জ গ্যাসফিল্ড-সোনাইমুড়ী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এছাড়া সাপোর্ট টু জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়ক পিপিপি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রকল্প, যার বাস্তবায়ন হবে ৭৮২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ বৃক্ষে উন্নতমানের আগর রেজিন সঞ্চয়ন প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং রংপুর নীলফামারী, পীরগঞ্জ শহর ও তদসংলগ্ন এলাকায় গ্যাস বিতরণ পাইপলাইন নেটওয়ার্ক নির্মাণ প্রকল্প, বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৮ কোটি ১১ লাখ টাকা।

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট
উত্তর দিন

মন্তব্য করুন

সকলের প্রচেষ্টার ফলে জলজট থেকে নগরবাসীকে মুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে : আতিকুল ইসলাম

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন ১ কোটি ৯৬ হাজার ৫২৫ ও সিনোফার্মের ২২ হাজার ২৭৬ জন