ভিতরে

রাজধানীতে ৫ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগ।
গ্রেফতারকৃতরা হল- সংঘবদ্ধ চক্রের প্রধান মো. মানিক মিয়া, মো. জাকির হোসেন, মো. আরিফ, মো. হযরত আলী ও মো. জাহিদ হোসেন।
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, একটি মোবাইল ফোন, একটি ছুরি, একটি গামছা, একটি খাকি রংয়ের স্কচটেপ, লাল-কালো রংয়ের ইলেকট্রিক তার ও একটি স্ক্রু-ড্রাইভার উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, ভিকটিম মো. আরিফুল ইসলাম চলতি বছরের ২০ মে রাত অনুমান সাড়ে ৯টার দিকে কুড়াতলী বিআরটিসি বাস কাউন্টারের সামনে ভুলতা গাউছিয়াগামী বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তখন একটি সাদা রংয়ের প্রাইভেটকার ভিকটিমের সামনে এসে দাঁড়ায়। তিনি তাদের সাথে প্রাইভেটকারে উঠেন। প্রাইভেটকারটি গাউছিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে প্রায় ২শ’ মিটার যাওয়ার পর পিছনের সিটের ভিকটিমের দু’ পাশে বসা ২ জন যাত্রী তার হাত চাপ দিয়ে ধরে। ভিকটিমকে গামছা দিয়ে বেঁধে কিল ঘুষি মারতে থাকে এবং গলায় ছুরি চেপে ধরে ভয় দেখায়। গ্রেফতারকৃতরা ভিকটিমের কাছে থাকা মোবাইল সেট, নগদ অর্থ ও ব্যবহৃত বিকাশ এ্যাকাউন্টের পিন কোড ছিনিয়ে নেয়। রাত আনুমানিক সোয়া ১০ টার দিকে ভিকটিমকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ থানা এলাকায় চোখে স্প্রে করে নামিয়ে দেয়। ভিকটিম তখন বুঝতে পারে প্রাইভেটকারে থাকা সকলেই ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। পরবর্তী সময়ে বাদি বাসায় গিয়ে দেখতে পায়, ছিনতাইকারীরা তার বিকাশ নাম্বারে থাকা টাকা সেন্ড মানি করে নিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিম আরিফুল ইসলাম খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
থানা পুলিশের পাশাপাশি মামলাটি ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা বিমান বন্দর জোনাল টিম। ঘটনা তদন্তে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে গোয়েন্দা টিম। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সিটি ফিলিং স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা ঢাকা মহানগরীর খিলক্ষেত, কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে ভুলতা-গাউছিয়া ও এয়ারপোর্ট থেকে ময়মনসিংহ, শেরপুরে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে কৌশলে যাত্রী উঠায়। পরবর্তী সময়ে যাত্রীর গলায় ইলেকট্রিক তার পেঁচিয়ে, গামছা দিয়ে চোঁখ ও হাত বেঁধে, মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে, মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে যাত্রীর সর্বস্ব লুট করে নিয়ে নির্জন স্থানে ফেলে পালিয়ে যায়।
খিলক্ষেত থানার মামলায় তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট
উত্তর দিন

মন্তব্য করুন

সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সমুদ্র বন্দরের জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত

করোনায় চট্টগ্রামে আক্রান্ত ১৬৯ জন