ভিতরে

চট্টগ্রামে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমেছে

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২৯৮ জনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়। সংক্রমণের হার ১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ সময় করোনায় আক্রান্ত দুই জনের মৃত্যু হয়।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর আটটি ও কক্সবাজার মেডিকেলে ২ হাজার ২৪২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নতুন শনাক্ত ২৯৮ জনের মধ্যে শহরের বাসিন্দা ২৪৪ জন এবং দশ উপজেলার ৫৪ জন। উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে হাটহাজারীতে ১৬ জন, রাউজানে ১১ জন, ফটিকছড়িতে ৭ জন, বোয়ালখালীতে ৫ জন, সীতাকু-, সাতাকানিয়া ও আনোয়ারায় ৪ জন করে এবং মিরসরাই, বাঁশখালী ও পটিয়ায় ১ জন করে রয়েছেন। জেলায় মোট সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৪৮ হাজার ৪৩৭ জনে দাঁড়ালো। এর মধ্যে শহরের বাসিন্দা ৩৮ হাজার ৮৯১ জন ও গ্রামের ৯ হাজার ৫৪৬ জন।
গতকাল চট্টগ্রামে করোনায় শহরের একজন ও গ্রামের একজন মারা যান। ফলে মৃতের সংখ্যা এখন ৪৮২ জন। এতে শহরের বাসিন্দা ৩৫৯ জন ও গ্রামের ১২৩ জন। সুস্থতার ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৩ জন। মোট আরোগ্যলাভকারীর সংখ্যা বেড়ে ৩৫ হাজার ৬৮৯ জনে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ৪ হাজার ৯০৯ জন এবং হোম আইসোলেশেনে থেকে চিকিৎসায় সুস্থ হন ৩০ হাজার ৭৮০ জন। হোম আইসোলেশনে নতুন যুক্ত হন ৩৮ জন ও ছাড়পত্র নেন ২৮ জন। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন ১ হাজার ৪১৭ জন।
উল্লেখ্য, ১০ এপ্রিলের পর থেকে গতকালের সংক্রমণ হার সবচেয়ে কম। তবে সেদিন করোনাকালের সর্বোচ্চ ৯ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া, এ মাসে আরো একদিন সংক্রমণ হার ছিল ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ। এদিন ৪ রোগীর মৃত্যু হয়। ১৬ এপ্রিল ২৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত ওঠে যায় সংক্রমণের হার। সেদিন ৭ রোগী মারা যান। ২ ও ১৪ এপ্রিল দুইদিন মৃত্যুশূন্য থাকলেও বাকী দিনগুলোতে এক বা একাধিক লোকের মৃত্যু হয়েছে। করোনাকালের সর্বোচ্চ ৫৪১ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয় ১১ এপ্রিল। সেদিন ৭ রোগী মারা যান। সংক্রমণ হার ছিল ২০ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৭৭৫টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাবে। এখানে ২১টির পজিটিভ রেজাল্ট আসে। এরা সকলেই শহরের বাসিন্দা। ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস ল্যাবে ৩৮৭ জনের নমুনায় গ্রামের ৫ জনসহ ৪১ জনের দেহে করোনাভাইরাস থাকার প্রমাণ মিলে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ২৫৫ জনের মধ্যে শহরের ৩৬ ও গ্রামের ৩৫ জন করোনায় আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হন। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ২১৬টি নমুনার মধ্যে গ্রামের ২টিসহ ৪৪টিতে করোনার জীবাণুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। নগরীর একমাত্র বিশেষায়িত কোভিড চিকিৎসা কেন্দ্র আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবরেটরিতে ৪১টি নমুনা পরীক্ষা হলে গ্রামের ৫টিসহ ২৬টির রেজাল্ট পজিটিভ পাওয়া যায়।
নগরীর বেসরকারি তিন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরির মধ্যে শেভরনে ৪১০টি নমুনা পরীক্ষা করে গ্রামের ৪টিসহ ৫৭টি, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ১০৩টি নমুনার মধ্যে গ্রামের ৩টিসহ ২০টি এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ৫৪টি নমুনায় শহরের ১৮টিতে জীবাণুর উপস্থিতি চিহ্নিত হয়। এদিন চট্টগ্রামের ১টি নমুনা কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় এটির রেজাল্ট নেগেটিভ আসে।
ল্যাবভিত্তিক রিপোর্ট বিশ্লেষণে চমেকে ২ দশমিক ৭১ শতাংশ, বিআইটিআইডি’তে ১০ দশমিক ৫৯, চবি’তে ২৭ দশমিক ৮৪, সিভাসু’তে ২০ দশমিক ৩৭, আরটিআরএল-এ ৬৩ দশমিক ৪১, শেভরনে ১৩ দশমিক ৯০, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ১৯ দশমিক ৪২, মা ও শিশু হাসপাতালে ৩৩ দশমিক ৩৩ এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ০ শতাংশ সংক্রমণ হার নির্ণিত হয়।

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট

একটি মন্তব্য

আরমানিটোলায় ভবনে আগুন : মৃতের সংখ্যা ৪

এক কৃষকের ৬ বিঘা জমির ধান কেটে দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ