ভিতরে

নতুন মুখ পাওয়াটাই বড় প্রাপ্তি: শেখ বশির আহমেদ

বঙ্গবন্ধু ৯ম বাংলাদেশ গেমস থেকে অনেক উদীয়মান খেলোয়াড় উঠে আসবে, সমৃদ্ধ হবে দেশের ক্রীড়াঙ্গন- আয়োজকদের এমন প্রত্যাশা বাস্তবে রুপ নিয়েছে পরিপূর্ণভাবে। ব্যাডমিন্টনে উর্মি, গৌরব, আর্চারিতে রাম কৃষ্ণ সাহার মতো বিভিন্ন ডিসিপ্লিন থেকে উঠে এসেছেও অনেক নতুন মুখ। যারা আগামীতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং সম্মান বয়ে আনবে।
গেমস আয়োজক বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি, মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ও গেমস স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান শেখ বশির আহমেদ মামুন বলেছেন, শতভাগ প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে তাদের। প্রত্যাশা পূরণ, আগামীর করণীয়, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্য গেমস আয়োজনের চ্যালেঞ্জ, গেমস সুষ্ঠ, সফল ও সুন্দরভাবে আয়োজনে সার্বক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা পাওয়াসহ আরও অনেক বিষয় নিয়ে কথা বললেন শেখ বশির আহমেদ।

বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমসের পর্দা নামছে। এই পর্যায়ে এসে এই গেমস নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

উত্তর: মূল্যায়ন বলতে অন্তত আমি মনে করি, ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ৯ম বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমেসের ৩১টি ডিসিপ্লিনে অনেক নতুন মুখের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। নতুনদের এই উত্থান আসলে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত যুব গেমসেরই ধারাবাহিকতা। তরুণরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে।

এই গেমস কতটুকু সফল হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

উত্তর: প্রথমত ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘ স্থবিরতার পর প্রাণ ফিরেছে। এছাড়া এই গেমসের সফলতা কেবল ক্রীড়াকৌশলের দৃষ্টিকোণ থেকেই কেবল বিবেচ্য নয়, বরং ক্রীড়াঙ্গনের আর্থ-সামাজিক দিক থেকেও বিবেচ্য। আমার অভিমত, এই গেমস সার্বিকভাবেই সফল হয়েছে।

গেমস আয়োজনে করোনাভাইরাস বড় বাধা ছিল। সেই চ্যালেঞ্জ কীভাবে কাটিয়ে উঠলেন?
উত্তর: অবশ্যই করোনা ভাইরাস একটা বড় বাধা ছিল। এখনও আছে। তবে আমাদের শক্তিশালী মেডিকেল টিম এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঐকান্তিক সহায়তায় আমাদের ক্রীড়াবিদদের করোনা সংক্রমণমুক্ত রেখে আমরা গেমসকে সফল করতে সক্ষম হয়েছি।

আপনি তো বিভিন্ন ভেন্যুতে ঘুড়েছেন । সেখানকার পরিবেশ কেমন মনে হয়েছে?

উত্তর: সব ভেন্যুতেই আমি গিয়েছি। অন্যবারের তুলনায় এবার আমি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য লক্ষ্য করেছি। কারণ এবার প্রতিটি ভেন্যু ছিল পরিচ্ছন্ন, গোছানো ও সুশৃঙ্খল। সবাইকে নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে দেখেছি। আরও যা ভালো লেগেছে তা হলো, ভেন্যুগুলো পরিচালনায় আমি বিদেশের ছায়া লক্ষ্য করেছি। কারণ বিদেশে গেমসের সময় যেভাবে সবকিছু হয় তার অনেকটাই এবার ভেন্যুগুলো দেখা গেছে। যেটা আগে দেখা যেত না। যেমন পদক প্রদান অনুষ্ঠান, পদক নিয়ে আসা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে আমি আমাদের তরুণ সংগঠকদের কৃতিত্ব দিতে চাই। কারণ তারা বিদেশে গিয়ে দেখে এসেছেন। সেই অভিজ্ঞতা এখানে কাজে লাগিয়েছেন।

গেমস আয়োজনে সরকার ও ফেডারেশনসহ সংশ্লিষ্ঠদের কাছ থেকে কেমন সহযোগিতা পেয়েছেন?

উত্তর: প্রতিকূল একটা পরিস্থিতির মধ্যে আমরা আছি। এই অতিমারীকালে সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় অনেককিছুই রয়েছে; তা সত্তেও খেলাধুলাকে প্রাধান্য দেয়ায় এবং অর্থসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেয়ায় আমরা গেমস আয়োজনে সক্ষম হয়েছি। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা বলতেই হবে। এই গেমস আয়োজনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উৎসাহ দিয়েছেন। এছাড়া ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও পাশে দাঁড়িয়েছে। মাননীয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সব সময়ই সহায়তা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা অভূবপূর্ব সাড়া পেয়েছি। মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই গেমসের অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি সব সময় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সমাপনী অনুষ্ঠানেও তিনি প্রধান অতিথি। এছাড়া পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলোর কথাও এই প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন। কারণ তারা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। চমৎকার ও উপভোগ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনে সিরিমনিজ কমিটি, মেডিকেল সার্ভিসের মহাপরিচালকের তত্বাবধানে আমাদের শক্তিশালী মেডিকেল টিম ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীও বিশেষ এবং গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তদুপরি ফেডারেশনগুলো ছাড়া তো গেমস আয়োজনই সম্ভব নয়। আসলে গেমস একটা সমন্বিত বিষয়। সবার সহযোগিতামূলক মনোভাব না থাকলে সফল করা সম্ভব হয় না। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সঙ্গে সবাই ছিল বলেই এই গেমস সফল হয়েছে।

খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা?
উত্তর: খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলতে চাই খেলাটা তাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। যত প্রতিকূলতাই আসুক না কেন নিজেদের সব সময়ই প্রতিযোগিতার জন্য তৈরি রাখতে হবে। যে কোন পরিস্থিতিতে অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে। সুযোগ যেমনই হোক সেটাকে কাজে লাগাতে হবে। কারণ তারাইতো দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে।
আর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনাদের নিরাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। ক্রীড়া সংগঠনে নতুন প্রজন্মের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তরুণ সংগঠকরা চলে আসছেন। এদের যথাযথ পরিচর্যা করতে পারলে ফেডারেশনগুলো আরো উন্নতি লাভ করবে।

আগামীতে বাংলাদেশ গেমসে কোন কোন বিষয়ে জোর দেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
উত্তর: অধিক সময় নিয়ে, আরো দীর্ঘ সময়ের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে করে আরো বেশি প্রতিদ্বন্দিতা গড়ে ওঠে। পাশাপাশি খেলাকে আরো বেশি করে ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দিতে হবে। এবার আটটি বিভাগে একটি করে খেলা আয়োজন করা হয়েছে। আমি মনে করি সংখ্যাটা আরো বাড়ানো প্রয়োজন। তাহলে প্রতিটি বিভাগের ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন হবে। প্রতিযোগীতা আয়োজনে দক্ষতা বাড়বে। সংগঠক, বিচারকও তৈরি হবে। সর্বোপরি উৎসাহিত হবে খেলোয়াড়রা। তাতে করে নতুন নতুন খেলোয়াড়ও উঠে আসবে।

আপনার নিজের ভাবনা!
উত্তর: বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে এই গেমস আয়োজিত হলো। এই অতিমারির মধ্যেও সবার সহযোগিতায় গেমস সফলভাবে শেষ করতে পেরেছি। এজন্য সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ গত বছর সবকিছু চূড়ান্ত করেও গেমস আয়োজন করতে সক্ষম হইনি। এ বছরও একটা অনিশ্চয়তা ছিল। কিন্তু সবার নিরলস প্রচেষ্টায় আমরা এ যাত্রায় উতরে গেছি। অনেক নতুন মুখ উঠে এসেছে। নতুন সংগঠক এসেছে। এ সবই আমাদের ভবিষ্যৎ আয়োজনে বিরাট ভূমিকা রাখবে। কারণ আমরা কেবল জাতীয় পর্যায়ের আসর আয়োজনেই সন্তুষ্ট থাকতে চাই না। বরং আন্তর্জাতিক আসরও আয়োজন করতে চাই।
পরিশেষে গণমাধ্যমের বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা তারাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন এবং গেমসকে সফল করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন।

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট
উত্তর দিন

মন্তব্য করুন

দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ নেইমার

আইপিএল: শেষ বলে চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে শুভ সূচনা কোহলির ব্যাঙ্গালুরুর