ভিতরে

দেশজুড়ে বাড়ছে সূর্যমুখীর আবাদ : লক্ষ্মীপুরে চলতি বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে ৩২ গুণ

হলুদ রঙের নান্দনিক একটি ফুল সূর্যমুখী। দেখতে সূর্যের মত এবং সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে, তাই ফুলকে সূর্যমুখী বলে। সূর্যমুখী থেকে তৈরি তেলও পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ। বিশ্বেজুড়েই সূর্যমুখী তেলের চাহিদা এখন ব্যাপক। আমাদের দেশেও ক্রমশ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জেলায় বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয়েছে। পুষ্টিবিদদের মতে, সূর্যমুখীর তেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা খুবই কম এবং হৃদরোগীদের জন্য বেশ কার্যকর। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি এবং ই। এই তেল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
বাসস জেলা প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখী চাষের চিত্রটুকু তুলে ধরার প্রয়াসে ‘দেশজুড়ে বাড়ছে সূর্যমুখীর আবাদ’ শীর্ষক ধারাবাহিক প্রতিবেদন তুলে ধরা হচ্ছে। আজ থাকছে লক্ষ্মীপুর জেলায় সূর্যমুখী চাষের চিত্র-
লক্ষ্মীপুর জেলায় গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ প্রায় ৩২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি উদ্যোগে কৃষি প্রণোদনা, কৃষি পুনর্বাসন এবং বিভিন্ন প্রদর্শনী প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে এমন অভুতপূর্ব উন্নতি হয় বলে জানা গেছে। তবে এবার অনুকূল আবহাওয়া এবং সম্ভাব্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে আগামীতে লক্ষ্মীপুর জেলা সূর্যমুখীর দেশে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় কৃষিবিদগণ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সূর্যমুখী সারাবছর চাষ করা যায়। তবে অগ্রহায়ণ মাসে চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। চাষাবাদের মাত্র ৯০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে এ ফসল ঘরে তোলা যায়। ২০২০-২১ইং অর্থ বছরের চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুর জেলায় ১ হাজার ৮৭৮ বিঘা বা ৪৭৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩২ গুণ বেশি। এবার লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ৮৫ হেক্টর, রায়পুরে ১৫৫ হেক্টর, কমলনগরে ১০৫, রামগতিতে ৮০ এবং রামগঞ্জে ৫০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। গত অর্থ বছরে জেলায় মাত্র ১৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষাবাদ হয়েছিল, এতে ৪৩ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন হয়। যেকারণে চলতি বছর জেলায় সূর্যমুখীর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র ৩০ হেক্টর জমিতে ৭০ মেট্রিক টন ফসল। কিন্তু এখন চাষাবাদ বেশি হওয়ায় ফসল উৎপাদনের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রাও বেড়েছে।
জেলা সদর, রায়পুর, কমলনগর, রামগতি ও রামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমুখী ফুলের ক্ষেত পরিদর্শন করে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা যায়। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় কৃষকরা নিয়মিত ফসলের যতœ নিচ্ছেন। যার ফলে, সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন আশা করা হচ্ছে।
এ বছর প্রথমবারের মতো পাঁচ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষাবাদ করেছেন সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ এলাকার কৃষক মো. ওসমান গণি। তিনি বাসসকে বলেন, ‘সূর্যমুখী চাষাবাদ সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা বা অভিজ্ঞতা ছিল না। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক সাহেব আমাকে সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। পরে কৃষি অফিস থেকে বীজ ও বিভিন্ন প্রকার সার বিনামূল্যে পেয়ে আমি চাষাবাদ শুরু করি। আমার ক্ষেতে ফসলের অবস্থা খুবই ভালো দেখা যাচ্ছে।
কৃষক মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘সূর্যমুখী চাষে খরচ কম, পরিশ্রমও তুলনামূলকভাবে কম। এখানে তৃপ্তি আছে। সূর্যমুখী ফুলের সৌন্দর্য খুবই ভালো লাগে। তাছাড়া সূর্যমুখীর বীজ থেকে শুরু করে সবকিছুই কাজে লাগানো যায়।’
সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক বাসসকে বলেন, ‘স্বল্প সময় এবং স্বল্প খরচে অধিক লাভ, সাথে মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য সূর্যমুখী ফুল চাষে পাওয়া যায়। এখানকার আবহাওয়া ও মাটি সূর্যমুখী চাষের উপযোগী। তবুও অনভিজ্ঞতার কারণে কৃষকরা সূর্যমুখী চাষে সাহস পাচ্ছিলেন না। এ বছর কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করায় বহু কৃষক প্রথম বারের মতো সূর্যমুখী চাষ করেছেন। এ বছর উৎপাদন ভালো হলে আগামীতে সূর্যমুখীর চাষাবাদ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. বেলাল হোসেন খান বাসসকে বলেন, ‘ক্ষতিকারক ইরোসিক এসিডমুক্ত এবং স্বাস্থ্যসম্মত ভোজ্য তেলের জন্য সূর্যমুখীর তেল খুবই উপযুক্ত। বর্তমান বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই কৃষি প্রণোদনা, কৃষি পুনর্বাসন এবং প্রদর্শনী প্রকল্পের মাধ্যমে সূর্যমুখী চাষে স্থানীয় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। চলতি অর্থ বছরে প্রত্যেক কৃষককে বিনামূল্যে এক কেজি সূর্যমুখী বীজ ও বিভিন্ন প্রকারের সার ২০ কেজি করে জেলার এক হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেয়া হয়। কৃষি পুনর্বাসনের আওতায় বিনামূল্যে ১ কেজি করে বীজ দিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২ হাজার কৃষককে সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এছাড়াও প্রদর্শনী প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ২৫৫ জন কৃষকের প্রত্যেককে সূর্যমুখী চাষে বিনামূল্যে ৭৫০ গ্রাম বীজ ও ১০৫ কেজি করে সার দেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ টন সূর্যমুখী বীজ বা দানা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এভাবে সূর্যমুখীর উৎপাদন বাড়ানো গেলে লক্ষ্মীপুর সূর্যমুখীর দেশে পরিণত হবে।’

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট
উত্তর দিন

মন্তব্য করুন

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

১৭ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত রাজধানীবাসীকে সময় নিয়ে গন্তব্যে বের হওয়ার জন্য ডিএমপির পক্ষ হতে অনুরোধ