ভিতরে

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ: বার্সেলোনাকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে পিএসজি

প্রথম লেগে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হবার পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ১৬’র দ্বিতীয় লেগে বার্সেলোনার ফিরে আসাটা অনেকটা অকল্পনীয় ছিল। নিজেদের মাঠ পার্ক ডি প্রিন্সেসে তাই পিএসজি ১-১ গোলে ড্র করলেও বার্সেলোনাকে বিদায় করে দিয়ে কোন অঘটন হতে দেয়নি। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই দাপটের সাথেই প্যারিসের চ্যাম্পিয়নরা কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।
কালকের ম্যাচে লিওনেল মেসি পেনাল্টির সুযোগ নষ্ট করেছেন। তবে ৩৭ মিনিটে ৩০ মিটার দূরত্ব থেকে মেসির শক্তিশালী এক গোলে কাল সমতা ফিরিয়েছিল বার্সা। আগের ম্যাচের হ্যাটট্রিকম্যান কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টিতে ৩০ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। আঁতোয়ান গ্রীজম্যানের আদায় করা পেনাল্টি থেকে প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে পেনাল্টির সুযোগ পেলেও তার থেকে দলকে এগিয়ে দিতে ব্যর্থ হন মেসি। এরপর বার্সেলোনা অনেক চেস্টা করেও সফল হতে পারেনি। চার বছর আগে এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই পথম লেগে ৪-০ গোলে পরাজিত হবার পর দ্বিতীয় লেগে ৬-১ গোলে জয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল কাতালান জায়ান্টরা।
২০০৭ সালের পর এই প্রথমবারের মত কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বার্সেলোনা বিদায় নিল। আগেরদিন জুভেন্টাসও পোর্তোর কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছে। যে কারনে মেসি কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর কেউই ২০০৫ সালের পর প্রথমবারের মত শেষ আটে খেলতে পারলেন না।
বার্সেলোনা কোচ রোনাল্ড কোম্যান কাল প্যারিসের প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে তার দলকে কোনভাবেই উজ্জীবিত করতে পারেননি। ম্যাচ শেষে কোম্যান বলেছেন, ‘আমরা প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিয়েছি। একটি মাত্র সান্তনা নিয়ে এখান থেকে যাচ্ছি, প্রতিপক্ষকে সহজে জিততে দেইনি। আমাদের আরো বেশী ভাল কিছুর প্রত্যাশা ছিল। বিরতির আগে যদি ২-১ গোলে এগিয়ে যেতে পারতাম তবে হয়তবা চিত্র পাল্টে যেতে পারতো।’
মাঝে বেশ কিছু সময়ের জন্য মাঠের বাইরে সমস্যা নিয়ে কঠিন পরিস্থিতি পার করেছে বার্সেলোনা। কিন্তু নতুন সভাপতি হিসেবে দ্বিতীয়বারের মত হুয়ান লাপোর্তা নির্বাচিত হওয়ায় সব সমস্যার অবসানের আশা করছে কাতালানরা। এমনকি লিগেও শিরোপা জয়ে বার্সা এখন শক্তিশালী ভাবেই এগিয়ে চলেছে।
এদিকে পিএসজি সহজেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করায় গত মৌসুমের ব্যর্থতা কাটিয়ে শিরোপা জয়ের দিকেই বেশী মনোযোগী হয়েছে। প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেললেও বায়ার্ন মিউনিখের কাছে পরাজিত হয়ে গত মৌসুমে হতাশ হতে হয়েছিল। এর আগে নক আউট পর্বে তিনবার এই বার্সেলোনার কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল পিএসজি। কিন্তু গত দুই আসর ধরে ইউরোপীয়ান সর্বোচ্চ এই আসরে দারুনভাবে নিজেদের প্রমান করে চলেছে।
ইনজুরির কারনে দুই লেগেই দলে ছিলেন না ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। কিন্তু সতীর্থ তারকা অনুপস্থিতি কিছুতেই বুঝতে দেননি এমবাপ্পে। প্রথম লেগে দুর্দান্ত পারফরমেন্সে পর বিশ^কাপ জয়ী এই তরুণ ফিরতি লেগেও ঘরের মাঠে ছিলেন সমুজ্জ্বল। কাল ম্যাচ শেষে পিএসজি কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো বলেছেন, ‘আমরা এখন কোয়ার্টার ফাইনালে, বেশ স্বস্তি অনুভব করছি। অনেক সময়ই ফুটবলে খারাপ অবস্থার মুখোমুখি হবার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়।’
কাল ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল বার্সেলোনার। প্রথম ৩০ মিনিটে বেশ কয়েকটি সুযোগও তারা তৈরী করেছে। কিন্তু আক্রমনভাগে ওসমানে ডেম্বেলের ব্যর্থতায় এগিয়ে যাওয়া হয়নি। সার্জিনো ডেস্টের শট ক্রসবারে লেগে ফেরত আসে, তবে পিএসজিকে বেশ কয়েকবার রক্ষা করেছেন গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। ৩০ মিনিটে ক্লেমেন্ট লেঙ্গেল্ট ডি বক্সের মধ্যে মাওরো ইকার্দিতে ফাউল করে বসে। প্রথম দেখায় ফাউল মনে না হলেও ইংলিশ রেফারি এ্যান্থনি টেইলর ভিএআর’র সহায়তায় নিশ্চিত হয়ে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। এমবাপ্পে স্পট কিক থেকে দলকে এগিয়ে দেবার পাশাপাশি মৌসুমে ২৬তম গোল পূরণ করেন। সাত মিনিট পর দুর্দান্ত গতিতে মেসি বার্সেলোনার হয়ে সমতা ফেরান। মৌসুমে এটি তার ২৫তম গোল। লেভিন কুরুজুয়ার বিপক্ষে গ্রীজম্যান প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে পেনাল্টি আদায় করে নেন। কিন্তু মেসির শট সহজেই রুখে দেন নাভাস। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই গোলরক্ষক বিরতির পরেও পিএসজিকে একাধিকবার রক্ষা করেছেন।

আপনি কি মনে করেন?

0 টি পয়েন্ট
উপনোট ডাউনভোট
উত্তর দিন

মন্তব্য করুন

খাদ্য নিরাপত্তা বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা মঞ্জুর

তিন নতুন মুখ নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড দল